বিশ্বাসের অভাব তো রয়েছেই তাঁদের মনে, তবু তাঁরা শঙ্কিত হৃদয়ে এই চিকিৎসা পদ্ধতিটিকেও যাচাই করে নিতে চান। অন্যান্য চিকিৎসা ক্ষেত্রে তাঁরা ধৈর্য সহকারে সুস্থ হওয়ার আশা রাখেন। তবে বিদেহী আত্মার দ্বারা চিকিৎসা করাতে এসে মনে করেন যেন তাঁদের অসুস্থতা জাদুমন্ত্রে উড়ে যাবে এবং সম্পূর্ণ নীরোগ হয়ে খুব তাড়াতাড়ি হাসপাতাল হতে বেরিয়ে আসবেন। কিন্তু এ ব্যবস্থায় যে কোনো রোগ যতদিনকারই হোক সারার কথা, তাতে ধৈর্য হারালে চলে না ৷
প্রতিবেদন প্রসঙ্গে কিছু কথা
প্রতিবেদনটির শুরুতে প্রতিবেদক মৃত্যুর পর আত্মা বাস্তবিকই কী করে—বলতে গিয়ে যা বলেছেন তা একান্তভাবেই প্রতিবেদকের নিজস্ব বিশ্বাসের কথা। তাঁর এই বিশ্বাসের পিছনে কোনও পরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ কাজ করেনি। যুক্তি বা বিজ্ঞান সিদ্ধান্তে পৌঁছায় পরীক্ষা, পর্যবেক্ষণের পথ ধরে। বিশ্বাস চলে আপন খেয়াল-খুশিতে। কখনও বহু লোকে বিশ্বাস করে, বিখ্যাত ব্যক্তিরা বিশ্বাস করেন, এই কু-যুক্তিতে মানুষ অন্ধভাবে কোনও কিছুতেই বিশ্বাস স্থাপন করেন। কখনও শাস্ত্রবাক্য, গুরুবাক্য ইত্যাদিকে অভ্রান্ত বলে ধরে নেওয়া থেকে সৃষ্টি হয় অন্ধ বিশ্বাস। বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্তির লড়াই জন্মলগ্ন থেকেই। কারও একাত্ত ব্যক্তি বিশ্বাস কখনই বিজ্ঞানের সত্য হয়ে উঠতে পারে না, তা সেই বিশ্বাস আইনস্টাইন, রবীন্দ্রনাথ বা সত্যজিৎ রায় যাঁরই হোক না কেন। যুক্তির সত্য, বিজ্ঞানের সত্য প্রতিটি ক্ষেত্রেই আসবে পরীক্ষা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেই।
এই প্রসঙ্গে একটি ঘটনা মনে পড়ে গেল। কলিকাতা পুস্তকমেলা ’৯০-এ আমাদের সমিতিও আসর জাঁকিয়ে বসেছিল এক রঙিন ছাতার তলায়। প্রতিদিনই আমরা নানা অনুষ্ঠান ও প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে জনসাধারণের কাছে পৌঁছতে চেষ্টা করছিলাম। এক সন্ধায় এক বিশপ আমাদের সামনে কিছু প্রশ্ন তুলেছিলেন। এই ধরনের প্রশ্ন আরও বহু ভাববাদীদের কাছ থেকে আসার সম্ভাবনা আছে বলেই প্রসঙ্গটির অবতারণা করছি।
বিশপ আমাকে বলেছিলেন, “কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিশ্বাস রাখতেই হয়, এমনই একটি ক্ষেত্র ঈশ্বর। ঈশ্বরকে বিশ্বাসেই পাওয়া যায়, যুক্তিতে নয়। যুক্তিতে সব কিছু প্রমাণ করা যায় না। আপনার বাবারই যে আপনি ছেলে তা কি আপনি প্রমাণ করতে পারেন? পারেন না। এখানে আপনাকে বিশ্বাসের উপরই নির্ভর করতে হয়।”