আমার নাড়ির গতি পরীক্ষা করে বললেন, “স্বাভাবিকই আছে দেখছি। আপনার নার্ভের তারিফ করতেই হবে। আপনি এক মনে ভাবতে থাকুন বেগুনের ভেতরটা সাদাই আছে। যখন আপনার মনে হবে বাস্তবিকই বেগুনটা সাদাই আছে, তখন আমাকে বলবেন। বেগুনটা কাটব।”
আমি প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বললাম, “এবার কাটুন।”
ঈপিতা তাঁর ডাইনি ছুরি ‘ড্যাগার অফ জাস্টিস’ তুলে বেগুনটা কেটে ফেললেন। বেগুনের ভিতরের সাদা অংশের খানিকটা জায়গা টকটকে লাল রক্তে ভেজা।
ঈপ্সিতা উত্তেজিত কণ্ঠে বললেন, “দেখছেন রক্ত। এটা আপনার অজ্ঞাত শত্রুর রক্ত।”
বেগুনের টুকরো দুটো হাতে নিয়ে এক মুহূর্ত পরীক্ষা করে বিনীতভাবে জানতে চাইলাম, “আপনি কী ভাবে ঘটালেন?”
“ভুডু মন্ত্রে। এই পদ্ধতিতে পৃথিবীর যে কোনও প্রান্তের শত্রুকেই বধ করতে পারি আমরা।”
বললাম, “ঈপ্সিতা, ট্রে থেকে যে কোনও একটা বেগুন আমার হাতে তুলে দিন। তারপর আপনি আপনার সমস্ত ইচ্ছে শক্তি দিয়ে চেষ্টা করুন বেগুনটার ভেতরটা সাদা রাখতে। আমি কোনও মন্ত্রের সাহায্য ছাড়াই বেগুনটা কেটে রক্ত বের করে দেব, ফোনটি আপনি করলেন।”
আমার কথা শুনে ঈপ্সিতার মুখের চেহারা গেল পাল্টে। তবু প্রাণপণ শক্তিতে নিজেকে শক্ত মাটিতে শেষ বারের মতো দাঁড় করাতে চাইলেন। বললেন, “ওইসব ছেলেমানুষি চিন্তা মাথায় রাখবেন না। ভুডু মন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ জানাবার ফল প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভয়াবহ।”
বললাম, “কোনও ভয় নেই আপনার। আমার কোনও ক্ষতির জন্য আপনাকে সামান্যতম দোষারোপ করব না। আপনি আমার হাতে একটা বেগুন তুলে দিন।”
উত্তেজিত, শঙ্কিত ঈপ্সিতা দীপ্তার হাতে ট্রেটা ধরিয়ে দিয়ে বললেন, “এটা ভেতরে নিয়ে যাও।”
দীপ্তাকেও যথেষ্ট নার্ভাস মনে হচ্ছিল। ও দ্রুত আদেশ পালন করল। আমি নিশ্চিত ছিলাম, প্রতিটি বেগুনেই লাল তরল ঢোকানো আছে। অথবা ছুরিতে মাখানো আছে রসায়ন। ঈন্সিতাকে আরও একটা চমক দিতে বললাম, “আমারও কিছু ক্ষমতা আছে।”