ভালোবেসে একটি সুন্দর আধারে দিলেন ম্যাগনেটাইজড জল।
৮ জুলাই বিকেলে গিয়েছিলাম মঞ্জু চ্যাটার্জির বাড়িতে। মধ্য বয়সি মঞ্জুকে দেখলাম শয্যাক্ষতে শয্যাশায়ী। শয্যাক্ষতের তীব্র গন্ধে বাতাস ভারী। কথা বললাম মঞ্জুর মা শান্তি সেন এবং সেবার দায়িত্বে নিয়োজিত মীরা দাসের সঙ্গে। তিনজনই জানালেন, বাস্তবিকই দীর্ঘ চিকিৎসার পর ইন্সিতার কসমিক-রে চার্জ করা অলৌকিক জল প্রতিদিন শরীরে বুলিয়ে ভালোই ফল পাচ্ছিলেন। শরীরের জ্বালা-যন্ত্রণা কিছুটা কম ছিল। শেষ শনিবার মন্ত্রপূতঃ জল না নিয়েই ফিরেছিলেন। তারপর থেকে যন্ত্রণাটা আবার তীব্র আকার ধারণ করেছে। ঘুম আসছে না। মঞ্জু কথা বলতে বলতে কাঁদছিলেন। আমি ঈপ্সিতার কাছ থেকে আসছি শুনে মঞ্জু অনুরোধ করলেন, “আপনি একটা কিছু করুন। এই যন্ত্রণা আমি আর সহ্য করতে পারছি না।”
মঞ্জুর উপর একটা পরীক্ষা চালাতে চাইলাম। মঞ্জুকে বললাম, “আমি কিছু কথা বলব, কথাগুলো আপনি চোখ বুজে মন দিয়ে শুনুন। আপনার যন্ত্রণা কমে যাবে, ভালো লাগবে, ঘুম হবে।” শান্তি দেবী ও মীরার উপস্থিতিতেই ‘হিপনটিক সাজেশন’ দিলাম। মিনিট দশ-পনেরো সাজেশন দেওয়ার পর মঞ্জুকে জিজ্ঞেস করলাম, “কেমন লাগছে?”
মঞ্জু বললেন, “ভালো লাগছে। ব্যথা-যন্ত্রণা অনেক কমে গেছে। আমার ঘুম পাচ্ছে।”
বললাম, “ঘুমান। আমি আবার পরশু সকালে এগারোটা নাগাদ এসে খবর নেব, কেমন ছিলেন।”
রবিবার সাড়ে বারোটা নাগাদ গিয়েছিলাম। গিয়েই একটা আশ্চর্য খবর শুনলাম। ঈপ্সিতা এসেছিলেন। সাড়ে দশটা থেকে বারোটা পর্যন্ত মঞ্জুর ঘরে ছিলেন।
ডাইনি সম্রাজ্ঞী ঈপ্সিতা হঠাৎ প্রথা ভেঙে বৈভব ছেড়ে গরিবের ভাঙা ঘরে এসেছিলেন কি শুধুই আর্তের সেবায়? তারাকুমারের কথাতেই আমার প্রশ্নের উত্তর পেলাম। শনিবার তারাকুমারের কাছে আমার আগমন বার্তা ও মঞ্জুর অবস্থার পরিবর্তনের কথা ঈন্সিতা শুনেছেন। আরও জেনেছিলেন আমি রবিবার এগারোটা নাগাদ আবার আসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।
মঞ্জু, শান্তি দেবী, মীরা এবং তারাকুমারবাবুর সঙ্গে মঞ্জুর বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা হল। চারজনই জানালেন আমার কথাগুলো শোনার পর মঞ্জু দেবীর যন্ত্রণা অনেক কম অনুভূত হচ্ছে। ঘুমও ভালো হচ্ছে। এ-বাড়ির প্রত্যেকের