বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (দ্বিতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/২১৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

পাঁচ


ভূতুড়ে তান্ত্রিক


গৌতম ভারতী ও তাঁর ভূতুড়ে ফটোসম্মোহন

 ’৮৭-র ১ আগস্ট-এর সন্ধ্যা। ‘আলোকপাত’ পত্রিকার প্রতিনিধি অমিতবিক্রম রাগা এলেন। উদ্দেশ্য আমার একটি সাক্ষাৎকার নেওয়া। বিষয় -সম্মোহন। কথা প্রসঙ্গে অমিত জানালেন, কয়েকজন মনোরোগ চিকিৎসকেরও সাক্ষাৎকার নেবেন, যাঁরা রোগীদের রোগমুক্ত করার ক্ষেত্রে সম্মোহনের সাহায্য নেন। এবং তাঁদের কাছে এও জানতে চাইবেন, কোন্ কোন্ রোগ মুক্তির ক্ষেত্রে সম্মোহন কার্যকর ভূমিকা নেয়। এরই পাশাপাশি কয়েকজন তান্ত্রিকের সাক্ষাৎকার নেবেন, যাঁরা দাবি করেন— তন্ত্র-মন্ত্রের সাহায্যে ভৌতিক উপায়ে শুধুমাত্র একটি ফটোগ্রাফ পেলেই সেই ফটোর মালিককে সম্মোহন করতে সক্ষম। এই ধরনের ফটো-সম্মোহনের সাহায্যে তাঁরা নাকি বিরহী প্রেমিক-প্রেমিকাদের মিলন ও বিবাহ ঘটিয়ে দিয়ে থাকেন, শত্রুকে পায়ের সুখতলা বানিয়ে থাকেন ইত্যাদি ইত্যাদি।

 অমিত জানালেন কয়েকজন মনোরোগ চিকিৎসক ও তান্ত্রিকের নাম, যাঁদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার ইচ্ছে আছে। এরই ভিতর একটি নাম গৌতম ভারতী। উত্তর কলকাতার উপকণ্ঠে লেকটাউন শিবকালী মন্দিরের গৌতম ভক্তি সিদ্ধান্ত ভারতী বিজ্ঞাপানের মাহাত্ম্যে অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে খ্যাত। অনেক দিনের ইচ্ছে, গৌতম ভারতীকে একটু নেড়ে চেড়ে দেখার। অমিতকে জানালাম, “গৌতম ভারতীর মুখোমুখি হওয়ার একটা আন্তরিক ইচ্ছে আমার আছে। কিন্তু সময়াভাবে ইচ্ছেটা বাস্তব রূপ নিতে পারেনি।”

 আমার কথায় অমিত প্রায় লাফিয়ে উঠলেন, “আপনি যদি আমার সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় আমার সঙ্গী হন তো দারুণ হয়। ব্যাপারটা তাহলে দারুণ জমবে।”

২১২