বললাম, “আমার পরিচয় পেলে ব্যাপারটা আদৌ জমবে বলে মনে হয় না। বরং গৌতম ভারতী হয়তো মুখই খুলতে চাইবেন না। আমার একটা পরিকল্পনা আছে। আমি যদি পরিচয় গোপন করে ‘আলোকপাত’-এর প্রতিনিধি হিসেবে আপনার সঙ্গী হই, আপত্তি আছে?”
আমার যুক্তি অমিতেরও মনে ধরল। বললেন, “না না, কোনও আপত্তি নেই। আপনি তো আমাদের পত্রিকাতেও লিখেছেন এবং আমাদের প্রতিনিধি হিসেবে আপনি থাকলে আমি এবং আমাদের পত্রিকা আন্তরিকভাবেই খুশি হব।”
আমি প্রস্তাব দিলাম, “আজ তাহলে আমার সাক্ষাৎকার নেওয়াটা মুলতবি থাক। আমরা বরং আজ গৌতম ভারতীর আশ্রম থেকে ঘুরে আসি। আমার সাক্ষাৎকারটা আর এক দিন হবে।”
অমিত রাজ হয়ে গেলেন। অতএব দু’জনে বেরিয়ে পড়লাম অ্যাডভেঞ্চারে, অবতার শিকারে।
যশোর রোড লেকটাউনের মুখে একটি বহুতল বাড়িতে গৌতম ভারতীর শিবকালী আশ্রম। ঢোকার মুখে এক মহিলা রিসেপশনিস্ট। তাঁকে জানালাম—‘আলোকপাত’ পত্রিকা থেকে আসছি। গৌতম ভারতীর একটি সাক্ষাৎকার পত্রিকায় প্রকাশ করতে আগ্রহী।
মহিলাটি এক কর্মচারীকে দিয়ে ডেকে পাঠালেন ম্যানেজারবাবুকে।
কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হল। অপেক্ষারত মানুষের সংখ্যা তখনও অন্তত জনা আটেক। ইতিমধ্যে গৌতম ভারতীর সঙ্গে সাধারণ মানুষের সাক্ষাতের একটা ছাপানো নিয়মাবলিও সংগ্রহ করলাম। তাতে লেখা গৌতম ভারতীয় সাক্ষাৎপ্রার্থীকে অবশ্যই আশ্রমের সদস্য হতে হবে। সদস্য পদ তিন রকমের: (১) ছয় মাসের জন্য ২১১ টাকা। (২) এক বছরের জন্য ৩১১ টাকা (৩) আজীবন ৫৭৫ টাকা। রিসেপশনিস্ট নিরুপমা সাউ জানালেন, প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জন সাক্ষাৎপ্রার্থীকে আচার্য গৌতম ভারতী দর্শন দেন, প্রতিকারের ব্যবস্থা করে দেন। একবার দর্শন করতে গেলেও দর্শনার্থীকে ২১১ টাকা জমা দিতে হবে। প্রতিকার ব্যবস্থার খরচ আলাদা।
ম্যানেজারবাবু এলেন। প্রবীণ, পাকানো চেহারা। সন্দিগ্ধ চোখে আমাদের দুজনকে কিছুক্ষণ জরিপ করলেন। আমাদের নাম, আসার উদ্দেশ্য শুনে কিছুক্ষণ কোনও উত্তর না দিয়ে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন, তারপর এক সময় সরাসরি আমাকে প্রশ্ন করলেন, “আপনাকে চেনা-চেনা মনে হচ্ছে।