বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (দ্বিতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/২১৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২১৪
অলৌকিক নয় লৌকিক ২
২১৪

কোথায় দেখেছি বলুন তো?”

 'বললাম, “তা তো ঠিক বলতে পারব না। তবে আপনাকে এই প্রথম দেখছি বলে মনে হচ্ছে।”

 “আপনি দমদমে থাকেন?” জিজ্ঞেস করলেন ম্যানেজারবাবু।

 “না। থাকি কলেজ স্ট্রিটের মেসে। তবে কাজের সূত্রে অনেক জায়গাতেই ঘুরতে হয়। দমদমেও বহুবার এসেছি।”

 আমাকে ও অমিতকে বাড়ির ঠিকানা বলতে বললেন। দু’জনেই বললাম। ম্যানেজারবাবু নাম ঠিকানা একটা কাগজে লিখে নিয়ে ‘আলোকপাত’ পত্রিকার ঠিকানা, ফোন নম্বর, সম্পাদকের নাম ইত্যাদি নিয়েই অনেক প্রশ্ন করলেন এবং কাগজটায় প্রয়োজনীয় উত্তরগুলো লিখে নিলেন। কাগজটা বুক পকেটে রেখে হঠাৎ আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “প্রবীর ঘোষকে চেনেন?” বললাম, “রামকৃষ্ণ মিশন নরেন্দ্রপুরে কাজ করেন তো? স্বাস্থ্য ভালো, টাক আছে?”

 “না, না, সে নয়, পত্র-পত্রিকায় ধর্মগুরুদের বিরুদ্ধে লেখে?” আমার দু-চোখে দৃষ্টি মেলে রেখেই কথাগুলো বললেন ম্যানেজারবাবু।

 বললাম, “না, এমন কাউকে চিনি না।”

 “আপনার নামটা যেন কী বললেন?” ম্যানেজারবাবু জানতে চাইলেন। বললাম, “কুমার রায়।”

 “আপনাদের কাছে ‘প্রেস কার্ড’ আছে?”

 এবার অমিতই উত্তর দিলেন, “আমাদের কোনও সরকারি প্রেস কার্ড ইস্যু করা হয় না।”

 “পত্রিকার তরফ থেকেও কোন্ পরিচয়পত্র এনেছেন?”

 অমিত জানালেন, “এখন সঙ্গে নেই। তবে আপনি যদি চান, নিশ্চয়ই পরিচয়পত্র পরশুই দেখিয়ে যাব। কারণ কাল তো রবিবার, অফিস বন্ধ।”

 ম্যানেজারবাবু বললেন, “ঠিক আছে, পরশুই পরিচয়পত্র নিয়ে আসুন, সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা করে দেব। সাক্ষাৎকারে কী কী বিষয় জানতে চান, সেগুলো একটু বলুন।”

 আমিই মুখ খুললাম, জানালাম, “আমাদের লেখার বিষয় সম্মোহন। এই বিষয়ে মনোরোগ চিকিৎসক ও কয়েকজন তান্ত্রিকের সাক্ষাৎকার নিতে আগ্রহী। মনোরোগ চিকিৎসকরা যেমন বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে সম্মোহন করেন, তেমনি তন্ত্রকে কাজে লাগিয়ে কিছু কিছু তান্ত্রিকও তো ছবির সাহায্যেই ফটো সম্মোহন করে অনেক অলৌকিক ঘটনা ঘটিয়ে দিচ্ছেন। আমরা শুনেছি