আচার্য গৌতম ভারতী ফটোসম্মোহনের সাষায্যে অনেক অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটিয়ে দেন। ব্যর্থ প্রেমিক-প্রেমিকাদের মিলন ঘটিয়ে দেন, শত্রুকে বশ করেন। এই বিষয়েই তাঁর কাছ থেকে কিছু জানতে চাই।”
৩ আগস্ট সন্ধায় আবার হাজির হলাম শিবকালী আশ্রমে। এ-দিন আমাদের সঙ্গী আরও একজন;. সত্যিকার কুমার রায়—পেশায় চিত্র সাংবাদিক। তখনও জনাদশেক দর্শনের প্রতীক্ষায় রয়েছেন। আজও রিসেপশনিস্ট নিরুপমার কাছে হাজির হলাম। আমাদের আসার খবর পাঠালেন ভিতরে। এলেন ম্যানেজারবাবু। ম্যানেজারের হাতে অমিত আমাদের দু’জনের পরিচয়-পত্র তুলে দিলেন, সেই সঙ্গে কুমারের পরিচয় দিতে গিয়ে বললেন, “প্রদীপ দাস, আমাদের পত্রিকার চিত্র-সাংবাদিক।” কুমারের কাঁধে ক্যামেরার ব্যাগ দেখে, ওর প্রতি আর সন্দেহ প্রকাশ করলেন না। দেখতে চাইলেন না ওঁর পরিচয়পত্র। আমার প্রতি যে সন্দেহ ছিল সেটা পরিচয়পত্রের কল্যাণে দূর হয়ে যাওয়ায় কুমারকেও প্রদীপ বলে ধরে নিয়েছিলেন।
ভিতরে আচার্যের কাছে আমাদের আগমনের খবর গেল। একটু পরে আহ্বান এল। দামী কার্পেটে মোড়া মেঝে। মেঝের এক প্রান্তে দেওয়াল ঘেঁষে উঁচু গদি। গদিতে হরিণের ছাল বিছানো। আশে-পাশে কয়েকটা পুরু তাকিয়া। হরিণের ছালে যিনি বসে আছেন তাঁর বয়স তিরিশের কাছাকাছি বলেই মনে হল। স্বাস্থ্য ভালো। উচ্চতা কিছুটা কম। গলায় একাধিক সোনার হার শোভা পাচ্ছে। বাহুতে দস্তুরমতো পুরু সোনার পাতে বন্দি রয়েছে ৯টি গ্রহরত্ব। গৌতম ভরাতী সাদরে আমাদের অভ্যর্থনা জানালেন। গৌতমের মুখোমুখি আমি ও অমিত বসলাম। ‘প্রদীপ’ ছদ্মপরিচয়ের আড়ালে কুমার তাঁর ক্যামেরা নিয়ে তৎপর হলেন শাটার টেপার সময়ের সন্ধানে।
গৌতম ভারতী একজনকে ডেকে আমাদের জিজ্ঞেস করলেন, “কী খাবেন বলুন?”
অমিতই বললেন, “মিষ্টি খেতে পারি।”
তিনজনের জন্য মিষ্টি আর ঠাণ্ডা পানীয় আনার নির্দেশ দিয়ে গৌতম আমাদের দিকে নজর দিলেন। বরং সত্যি বলতে কি, আমার দিকেই নজর দিলেন। একটানা মিনিট দশেক পুলিশি জোরার প্রতিটি হার্ডল পার হতে হল। গৌতম নিশ্চিন্ত হলেন, আমি প্রবীর ঘোষ নই। ইতিমধ্যে তিনটি রেকাবি বোঝাই মিষ্টি এল, এল ঠাণ্ডা পানীয়। খেতে খেতে শুনছিলাম গৌতমের অতীন্দ্রিয় দৃষ্টি ও অলৌকিক-ক্ষমতার অনেক অনেক কাহিনি। জানালেন, যে