বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (দ্বিতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/২২০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২১৬
অলৌকিক নয় লৌকিক ২

কোনও মানুষকে দেখলেই গৌতম তাঁর অতীন্দ্রিয় দৃষ্টির সাহায্যে অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ সবই দেখতে পান। অতীন্দ্রিয় দৃষ্টির কাছে মানুষের গোপনীয় কিছুই থাকতে পারে না।

 আমি প্রবীর ঘোষ নই, এই বিষয়ে গৌতমের নিশ্চিন্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমিও নিশ্চিন্ত হলাম, গৌতমের পুঁজি কতখানি জেনে।

 আমার সঙ্গে কথা বলতে বলতে আমাকে দিয়েও কথা বলাচ্ছিলেন। আবেগতাড়িত মানুষের মতো আমিও কথা বলে যাচ্ছিলাম। বলছিলাম আমার অনেক দুঃখের কথা। সাংবাদিকতার লাইনে দীর্ঘবছর থেকেও প্রতিষ্ঠার মুখ দেখতে না পাওয়ার দুঃখের কথা।

 গৌতম ভরসা দিলেন। বললেন, “আপনার ভক্তি আছে, অনেক গুণ আছে। জীবনে সফলতা পেতে প্রয়োজন সেইসব লুকনো গুণগুলোকে বের করে নিয়ে এসে ঠিকমতো কাজে লাগানো। একজন অভিনেতার সমস্ত প্রতিভাকে দর্শকদের সামনে সফলভাবে হাজির করতে পারেন শুধুমাত্র একজন সফল ডাইরেক্টর। মায়ের ইচ্ছের আপনি যখন আমার কাছে এসেই পড়েছেন, তখন আর চিন্তা কী? ডিরেক্টরের ভূমিকা না হয় আমিই নেব। ধরুন...ধরুন...ধরুন...”

 গৌতম হঠাৎ তাঁর ডান হাতটা শূন্যে তুলে কাঁপতে কাঁপতে নামিয়ে আনলেন। আমার কপালে তাঁর কাঁপা কাঁপা হাতটা ঠেকিয়ে আমার ডান হাতে দিলেন একটি শিকড়। অমিতের হাতেও দিলেন একটি শিকড়। বললেন, “এই শিকড়টা সব সময় সঙ্গে রেখে দেবেন। মঙ্গল হবে। মানসিক শক্তি বাড়বে।”

 জিজ্ঞেস করলাম, “শিকড় দুটো কি আপনার হাতেই ছিল? নাকি ও-দুটো সৃষ্টি করলেন?” আমার স্বরে স্পষ্ট বিহ্বলতা।

 গৌতম হাসলেন। বললেন, “ওগুলো শূন্য থেকেই সৃষ্টি করেছি। এই তো কয়েকদিন আগে আপনাদের বিখ্যাত গায়ক অমৃক সিং অরোরাকে ঠিক এমনিভাবেই এনে দিয়েছিলাম একটা বড়সড় রঙিন পাথর।”

 বিস্মিত আমি বললাম, “এতদিন জানতাম নেই থেকে আছে হয় না। আজ নিজের চোখে দেখে বিশ্বাস করতে বাধ্য হলাম। আসলে তবুও ধন্দ থেকেই যায়; যা দেখেছি সেটা ম্যাজিক নয় তো? অথবা, সম্মোহনের ফল? এতদিনের বিজ্ঞান পড়ার সংস্কার থেকে চট্ করে বেরিয়ে আসাও তো সহজ কথা নয়। ভরসা দিলে একটা অনুরোধ করি।”

 “বলুন, বলুন!” আত্মবিশ্বাসে ভরপুর গৌতম আমার দিকে তাকালেন—যে চোখে শিকারি শিকারকে খেলিয়ে তোলার মুহূর্তে তাকিয়ে থাকে।