বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (দ্বিতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/২২২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২১৮
অলৌকিক নয় লৌকিক ২

ধারণা সঞ্চার করে স্রেফ একটা আঙুল ছুঁইয়ে সম্মোহিত মানুষটির শরীরে ফোস্কা ফেলে দিতে পারেন। পারেন সম্মোহনের সাহায্যে বহু রোগীকে রোগ মুক্ত করতে।

 বললাম, “সত্যি বলতে কি, আপনার মুখ থেকে শোনা সত্ত্বেও কথাগুলো বিশ্বাস করতে মন চাইছে না। আপনি যদি আমার হাতে একটু ফোসকা ফেলে দেখান...।”

 গৌতম চতুর মানুষ। যা পারেন না, তা গল্পেই সীমাবদ্ধ রাখেন, ঘটানোর চেষ্টা করেন না। এ-ক্ষেত্রেও তার অন্যথা করলেন না। বললেন, “মাঝে মাঝে আসুন। সময়ে অনেক কিছুই দেখতে পাবেন।”

 অমিত ফটো সম্মোহনের বিষয়ে কিছু বলতে অনুরোধ করলেন। গৌতম জানালেন, “তন্ত্র হল বিজ্ঞান। তথাকথিত সাধারণ বিজ্ঞানের যেখানে শেষ, তন্ত্রের সেখানে শুরু। এতক্ষণ আপনাদের যে-সব সম্মোহনের কথা বলছিলাম, সেগুলো ঘটাতে তন্ত্রের প্রয়োজন হয় না, সামান্য চেষ্টাতেই যে কোনও মনোবিজ্ঞানীই ওইসব ঘটনা ঘটাতে পারেন। কিন্তু ফটো সম্মোহন—সেটা হল তন্ত্রের এক বিশেষ জটিল প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় কোনও একজনের ছবি পেলে সেই ছবির সাহায্যেই ছবির মালিককে সম্মোহিত করা যায়। অনেক ব্যর্থ প্রেমিক বা প্রেমিকা তাঁদের ব্যর্থ-প্রেমকে সফল করে তুলতে আমার কাছে আসে। তাদের কষ্ট দেখে ফেরাতে পারি না। ফটো সম্মোহন করে মিলন ঘটিয়ে দিয়ে ব্যর্থ জীবনে বাঁচার আনন্দ এনে দিই। আর এতেই আমার আনন্দ।”

 “ব্যাপারটা কেমন ভাবে ঘটান?” সত্যিকারের কুমার রায়ই এবার প্রশ্ন করলেন।

 “ধরুন একটি ছেলে এল। একটি মেয়ের সঙ্গে গভীর প্রেম ছিল। কিন্তু বর্তমানে বাড়ির চাপে বা অন্য কোনও কারণে মেয়েটি ছেলেটিকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলছে। বা বলা যায় ছেলেটিকে নিজের জীবন থেকে সম্পূর্ণ মুছে ফেলতে চাইছে। ছেলেটিকে বললাম তার প্রেমিকার একটি ছবি এনে দিতে। ছেলেটি একটি ছবি এনে দিল। এ-বার শুরু হল যাগযজ্ঞের সাহায্যে তন্ত্রমতে মেয়েটিকে সম্মোহন করা। মেয়েটি যত দূরেই থাক, তন্ত্রের এই সম্মোহন শক্তিকে কিছুতেই সে এড়াতে পারবে না। তার মস্তিষ্ককোষে ধারণা সঞ্চার করে দিই—সে ছেলেটিকে ভালোবাসে। ছেলেটিকে ভালোবাসার মধ্যেই সে খুঁজে পাবে জীবনের সার্থকতা। এমনি তিনটে সিটিং-এরপর দেখা যাবে,