বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (দ্বিতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/২২৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ভূতুড়ে তান্ত্রিক
২১৯

মেয়েটি ছেলেটির বিচ্ছেদ সহ্য করতে পারছে না। ছেলেটির সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য আকুল হয়ে রয়েছে। ফলে দুজনের মিলন ঘটতেও দেরি হয় না।”

 আমি প্রশ্ন তুললাম, “প্রতিটি ক্ষেত্রেই কি ফটো সম্মোহনে সফলতা পাওয়া সম্ভব?”

 গৌতমও পাল্টা প্রশ্ন করলেন, “কেন সম্ভব নয়? তন্ত্র যদি বিজ্ঞানই হয় তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই সফলতা আসতে বাধ্য। যেমন একের সঙ্গে এক যোগ করলে সব সময়ই দুই হতে বাধ্য। যাদের দায়িত্ব নিয়েছি, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাদের মিলন ঘটাতে সক্ষম হয়েছি।”

 গৌতম ভারতীর আদেশে ম্যানেজারবাবু কিছু খাতাপত্তর বের করে দিলেন। গৌতম সে সব ঘেঁটে চারটি নাম বের করে দিলেন, মালা বসাক, সৌমিত্র সেন এবং স্মৃতিরেখা চ্যাটার্জি, অলোক ব্যানার্জি। বললেন, “এদের মিলন ঘটিয়েছি ফটোসম্মোহন করে।”

 বললাম, “সব কিছু জানা-বোঝার পরও সমস্ত ব্যাপারটাই কেমন অবিশ্বাস লাগছে। আমি একটি মেয়েকে বিয়ে করতে চাই, তার ভালোবাসা চাই, মেয়েটির ছবি আপনাকে হাজির করতেই আপনি তাকে আমার করে দিলেন-ভাবতে পারা যাচ্ছে না।”

 “ভাবতে না পারার মতো অনেক কিছুই এই পৃথিবীতে ঘটে চলেছে। এই যে আমি ‘মোহিনী ঔষধি’ দিয়ে থাকি, এর এমনই বশীকরণ শক্তি যার প্রভাবে যে কোন শত্রুকে, যে কোন স্ত্রী বা পুরুষকে বশে আনা সম্ভব।” জানালেন গৌতম।

 বললাম, “তাহলে ব্যর্থ প্রেমিক-প্রেমিকাদের 'মোহিনী ঔষধি’ না দিয়ে এত যাগযজ্ঞ করে ফটোসম্মোহন করার দরকার কী?”

 গৌতম জানালেন, ‘মোহিনী ঔষধি’-তে বশ করা আর প্রেম পাওয়া কি এক ব্যাপার? ফটোসম্মোহন সম্মোহিত করে একজনের মনে আর একজনের প্রতি প্রেম জাগিয়ে তুলি।”

 অমিত জিজ্ঞেস করলেন, “ফটো সম্মোহনের জন্য কত নেন?”

 গৌতম জানালেন, “কোনও টাকা-পয়সাও নিই না। যজ্ঞের খরচটুকুই শুধু নিই।”

 “সেটা কত?” অমিতই জিজ্ঞেস করলেন।

 “তিন হাজার এক টাকা।”