এবং অলৌকিকতায় বিশ্বাসী সাধারণ মানুষেরা যুক্তিবাদের এই পরাজয়ের খবরে প্রচণ্ডভাবে উল্লসিত হয়েছে। প্রতিটি যুক্তিবাদী আন্দোলনে ব্রতী স্বেচ্ছা প্রতিষ্ঠানকে অপ্রিয় প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। অপমানিত হতে হয়েছে, ধিকৃত হতে হয়েছে। কয়েকটা দিনের জন্য বহু ক্ষেত্রেই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল কুসংস্কার বিরোধী আন্দোলন। ঘটনার আকস্মিকতায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় শত শত সংগঠনের চিঠির পাশাপাশি বহু মানুষের উৎকণ্ঠাভরা বাস্তব সত্যকে জানতে চাওয়া চিঠির পাহাড় জমেছিল। ভোর থেকে রাত দুপুর পর্যন্ত বাড়িতে এসেছেন দূরের-কাছের বহু গণ-সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাঁরা অনেকেই অভিযোগ করছেন, অলৌকিক বিরোধী অনুষ্ঠানের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে, দেওয়াল লিখনে লেপে দেওয়া হচ্ছে আলকাতরা, হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে প্রচার-পত্র ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। অলৌকিক বিরোধী অনুষ্ঠানের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে।
আমাদের সংগ্রামী সাথী যাঁরাই এসেছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকেরই বক্তব্য ছিল—একটা কিছু করতে হবে। কোণঠাসা অবতাররা আজ যে আক্রমণ চালিয়েছে, তাকে ভেঙে গুঁড়িয়ে না দিলে আমাদের আন্দোলনের অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়বে। আমরা সঠিক আঘাত হানতে পারছি বলেই অবতাররা আজ আমাদের প্রত্যাঘাত করেছে।
কী করব আমরা? কুসংস্কার মুক্তির এই সাংস্কৃতিক আন্দোলন যখন সঙ্কটের আবর্তে পাক খাচ্ছে তখন আমাদের সামনে একটি মাত্র পথ খোলা ছিল—বিজ্ঞাপনের জবাবে পাল্টা বিজ্ঞাপন দেওয়া। কারণ, আমাদের যতদূর জানা আছে, ইতিপূর্বে বিজ্ঞাপনের প্রতিবাদ পাঠানো কোনও চিঠি প্রথম শ্রেণির কোনও ভারতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়নি। আবার ধনকুবের অবতারদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞাপনের লড়াইয়ে নামলে তা হয়ে দাঁড়াবে অসম লড়াই। আমরা খবর পাচ্ছিলাম কিছু অবতার ও জ্যোতিষীরা এই লড়াইকে তাঁদের বাঁচার শেষ লড়াই হিসেবে ধরে নিয়ে একত্রিত ও সংগঠিত হয়েছেন। এক অবতারের টাকার জোরের সঙ্গে টক্কর দিতেই যখন আমরা অপারগ, তখন বহুর বিরুদ্ধে লড়ব কেমন করে? আমরা যখনই একটা কাগজে ছোট্ট বিজ্ঞাপন দিয়ে বাস্তব সত্যকে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরব, তখন বিরোধী শিবির দশটা কাগজে দশটা ঢাউস বিজ্ঞাপন দিয়ে আমাদের বক্তব্যকে ভাসিয়ে নিয়ে চলে যাবে।
ইতিমধ্যে ‘গোদের উপর বিষফোড়া’। আমরা বিভিন্ন সহযোগী সংস্থার ও অগ্রণী বিজ্ঞান সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনায় বসলাম আমাদের