বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (দ্বিতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/২৩০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২২৬
অলৌকিক নয় লৌকিক ২

তা নির্জলা মিথ্যা। তথ্য ও সত্যের মারাত্মক বিকৃতি ঘটিয়েছেন তিনি। বিজ্ঞাপনটিতে বলা হয়েছে লেকটাউন শ্রীশ্রীশিবকালী আশ্রমের অধ্যক্ষ শ্রীমদ গৌতম সিদ্ধান্ত ভারতীর কাছে পরাজিত হয়ে মাথা নত করতে বাধ্য হয়েছেন। বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত ছবিটি ’৮৭ সালের নভেম্বরে ‘আলোকপাত’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। তলায় ক্যাপশন ছিল ‘এই গৌতম সিদ্ধান্ত ভারতীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন প্রবীর ঘোষ।’ বিজ্ঞাপনে ক্যাপশনটিকে সম্পূর্ণ বদলে দেওয়া হয়েছে। ছবির সঙ্গে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল তা থেকেই পরিষ্কার যে গৌতম ভারতীর অলৌকিক ক্ষমতা কিছুই নেই। আলোকপাতে প্রকাশিত ওই লেখাটির শিরোনাম ছিল ‘সম্মোহনে ‘অসম্ভব সম্ভব হয় কি?’ লেখক ছিলেন তাপস মহাপাত্র ও অমিত বিক্রম রাণা। ছবিটি তুলেছিলেন কুমার রায়। প্রতিবেদনে লেখকদ্বয় জানিয়েছিলেন ‘ফটোগ্রাফার ভদ্রলোক পৌঁছুনোমাত্র আশ্রমাধ্যক্ষ (অর্থাৎ গৌতম ভারতী) হঠাৎই ম্যাজিকের মতো খালি হাতটি এগিয়ে দিয়ে হাতের মুঠো থেকে বের করলেন নাম-না-জানা শিকড়। এ দিব্যদৃষ্টি। সম্মোহনে ত্রিকাল দর্শনও করতে পারে। এসব তাঁর দাবি। এক্ষেত্রে বলাবাহুল্য ফটোগ্রাফারের ছদ্মবেশে যাওয়া সুদক্ষ সম্মোহনবিদ্ প্রবীর ঘোষকে তিনি চিনতে পারলেন না কিছুতেই’...‘প্রবীরবাবুর একটার পর একটা প্রশ্নে হার মানলেন শ্রীযুক্ত ভারতী। কিন্তু তাঁর এইসব তন্ত্রমন্ত্রের বুজরুকি প্রকাশ কথাবার্তা প্রকাশ না করার জন্যও অনুরোধ করলেন। কেন না এতে তাঁর ব্যবসার ক্ষতি হবে। এই লেখা থেকে পরিষ্কার হার আমার হয়নি। হেরেছেন তিনিই। ছবিটিরও একটা নেপথ্য কাহিনি আছে। গৌতম ভারতীর কাছে আমি গিয়েছিলাম আত্মপরিচয় গোপন করে। সাধারণ ভক্ত সেজে। নাম দিয়েছিলাম কুমার রায়। কিন্তু সবজান্তা এই গুরুদেব আমার আসল পরিচয় জানতে পারেননি। আর পাঁচটা ভক্তকে যেমন আশীর্বাদ করেন তেমনভাবেই আশীর্বাদ করেছিলেন আমাকে। আমি নিশ্চিত আমার পরিচয় জানার পর তিনি আমাকে আশ্রমে ঢুকতেই দিতেন না। আমার পক্ষেও সম্ভব হত না তাঁর বুজরুকি ধরা। আমাকে চিনতে না পেরে আশীর্বাদরত গৌতম ভারতীর এই ছবিটিই ‘আলোকপাতে’ ছাপা হয়েছিল। এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পর বেশ কিছুদিন চুপচাপ থাকার পর আবার আসরে নেমেছেন গৌতম ভারতীর ‘ভক্তরা’। কিছুদিন আগে ‘আজকাল’ পত্রিকায় রবিবাসরে ‘আমার চ্যালেঞ্জাররা’ শীর্ষক লেখাটিতে গৌতম ভারতীর বুজরুকির মুখোশ আর একপ্রস্থ খুলে দেবার পরই আমার