মানুষের এক বিশাল অংশ। যুক্তিবাদী আন্দোলনের জনপ্রিয়তার বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে সামন্ততান্ত্রিক মূল্যবোধ। এতে বিপদ অনেক। যুক্তিবাদী চেতনার উন্মেষে বিপদ অনেকেরই—তারা তো সর্বশক্তি দিয়ে বাধা দেবেই।
এ তো আমাদের অজানা ছিল না। এই আন্দোলন যে শ্রেণিস্বার্থকে আঘাত হানবে সেই শ্রেণি তাদের স্বার্থরক্ষার তাগিদে, অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে, তীব্র প্রত্যাঘাত হানবে। এই প্রত্যাঘাতের মুখে কেউ সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, কেউ পিছু হটবে। আমাদের এই সংগ্রামেও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া মানুষও যেমন পেয়েছি, তেমনি পিছু হটে যাওয়া বাক্য-সর্বস্ব মানুষও দেখেছি।
আমাদের দেশের বহু সংগঠন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে দাবি জানিয়েছিলেন, পুলিশ ও প্রশাসন যেন আক্রান্ত যুক্তিবাদী আন্দোলনকর্মীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন। প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সভা-সমিতির মাধ্যমে পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী, দেশের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে গৌতম ভারতীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ও আমাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি উঠছিল। আনন্দবাজারের প্রতিনিধি দীপ্তেন্দ্র রায়চৌধুরী এই সময় আমার একটি সাক্ষাৎকার নেন। জিজ্ঞেস করেছিলেন, “পুলিশ বা প্রশাসন সাহায্য না করলে আপনারা কি যুক্তিবাদী আন্দোলন বন্ধ রাখবেন?”
বলেছিলাম, “একজন নাগরিক হিসেবে পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে নিশ্চয়ই আমার ও আমাদের সমিতির ঘনিষ্ঠদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি করতেই পারি এবং করছিও। কিন্তু তার সঙ্গে এটাও ঠিক, আমরা পুলিশ ও প্রশাসনের উপর নির্ভর করে আন্দোলন করতে নামিনি। প্রত্যাশাও করি না পুলিশ ও প্রশাসন আমাদের আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আমরা নির্ভর করি দেশের লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি খেটে খাওয়া মানুষের উপর। তাঁরাই আন্দালন এগিয়ে নিয়ে যাবেন। তাঁরাই তো আমাদের আন্দোলনের শক্তি।
২৫ ফেব্রুয়ারি আনন্দবাজার পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় চার কলম জুড়ে প্রকাশিত হল—
‘অলৌকিক শক্তিধরদের’ চ্যালেঞ্জ করে যুক্তিবাদী বিপন্ন
দীপ্তেন্দ্র রায়চৌধুরী
যুক্তির পথ কখনওই সুগম নয়। সংস্কার আর অন্ধবিশ্বাস যেখানে দৃষ্টি আচ্ছন্ন করে রাখে, সেখানে স্বেচ্ছায় যাঁরা যুক্তিবাদের পথ বেছে নেন, তাঁদের কঠিন পরীক্ষা দিতেই হয়। যেমন এই মুহূর্তে দিতে হচ্ছে