বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (দ্বিতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/২৩৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৩০
অলৌকিক নয় লৌকিক ২

প্রবীর ঘোষকে। প্রবীরবাবু ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির সম্পাদক। অসংখ্য অবতার, মহাপুরুষ, জ্যোতিষী, তান্ত্রিক, ওঝা, জানগুরু আর ‘অলৌকিক শক্তিমান’দের বিরুদ্ধে সারা দেশে এই মুহূর্তে প্রচার চালাচ্ছেন বিজ্ঞানমনস্ক ও যুক্তিনিষ্ঠ বেশ কিছু মানুষ ও সংগঠন। প্রবীর ঘোষ ও তাঁর সমিতি এঁদেরই অন্যতম। বার বার ‘হোলি ম্যাজিশিয়ান’দের চ্যালেঞ্জ জানাতে জানাতে প্রবীরবাবু এখন জড়িয়ে পড়েছেন এক সঙ্কটের ঘূর্ণিতে। প্রথম একটি বিজ্ঞাপন যাতে দাবি করা হয় তিনিও এক ‘গুরুর’ কাছে মাথা নত করেছেন। এবং প্রকাশ্যে তার প্রতিবাদ করতেই শারীরিক আক্রমণের হুমকির মুখে পড়েন। প্রবীরবাবুর মনে হয়, ‘ওরা ফাঁকা আওয়াজ দিচ্ছে না। ওদের টাকা আছে, তার জোরে ওরা অনেক কিছুই করতে পারে।’ তার অভিযোগ, দমদম লেকটাউন অঞ্চলে তাদের সমিতির কর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে—যুক্তিবাদী বইয়ের কাউণ্টারে এসে বলা হচ্ছে, “প্রবীর ঘোষকে কেউ বাঁচাতে পারবে না; এসব করলে তোমরাও মরবে।” প্রবীরবাবু ইতিমধ্যেই দমদম থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। কিন্তু পুলিশ এখনও অবধি সক্রিয়তার পরিচয় বিশেষ দেয়নি।

 ‘অলৌকিক শক্তিধর’ গৌতম ভারতীকে প্রবীর ঘোষ চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আসছেন অনেক দিন থেকেই। কিন্তু ‘অলৌকিক শক্তিধর’ বলে কথিত গৌতম ভারতীর সঙ্গে তাঁর নতুন করে বিরোধের কারণ একটি বিজ্ঞাপন—যাতে বলা হয়েছে ভারতীর কাছে হার মেনে প্রবীরবাবু তার সামনে মাথা নত করেছেন। বক্তব্যের সমর্থনে একটি ছবিও বিজ্ঞাপনের সঙ্গে ছাপা হয়েছে। বিজ্ঞাপনের ছবি ও কথায় ছিল ‘পৃথিবীর সমস্ত সন্ত-মহাপুরুষদের ধোঁকাবাজ বলে তাদের কুৎসা প্রচারে পঞ্চমুখ’ প্রবীরবাবু শ্রীমদ ভারতীর কাছে সকল প্রশ্নের সুসমাধান পেয়ে মাথা নত করে ভারতীজির আশীর্বাদ ভিক্ষা করেন। প্রবীরবাবুর মতে, বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে, কতখানি মিথ্যা প্রচার করা যায়—এ তারই নিদর্শন। ছবিটি অবশ্য সাজানো নয়—এক অলোকচিত্রীরই তোলা। সেই ঘটনাও ঘটেছিল সাংবাদিকদের সামনেই, ১৯৮৭ সালে—তবে সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে। পরিচয় গোপন করে প্রবীরবাবু উপস্থিত হয়েছিলেন গৌতম ভারতীর সামনে। দিব্যদৃষ্টির অধিকারী বলে প্রচারিত তান্ত্রিক আদৌ বুঝতে পারেননি প্রবীরবাবুর উদ্দেশ্য। বরং দর্শনার্থীদের একজন মনে করে ভারতী তাঁকে আশীর্বাদ করেন। সেই ছবিটি তখনই তোলা। একটি পত্রিকায় তা ছাপাও হয়। হুবহু এই ছবিটিই বিজ্ঞাপনেও রয়েছে। সেই পত্রিকার প্রতিবেদনে স্পষ্টই জানানো হয়েছিল, প্রবীরবাবুর বিভিন্ন