প্রায় সারাদিনই তিনি ছিলেন অচৈতন্য। সন্ধে নাগাদ ধীরে ধীরে তাঁর জ্ঞান ফিরে আসে। সারাদিনই তাঁর স্যালাইন চলে। সন্ধে সাতটা নাগাদ এক সিস্টার তাঁকে ইঞ্জেকশন দিতে এলে গৌতম ভারতী আবার রুদ্রমূর্তি ধরেন। হঠাৎই উন্মত্তের মতো আচরণ করতে থাকেন তিনি। চিৎকার করতে করতে তিনি বেড থেকে লাফ দেন। তাঁর নিজের স্যালাইনের বোতল ছিটকে পড়ে। এরপর তিনি তাঁর চারদিকের রোগীদের দিকে তেড়ে যান। তাঁদের স্যালাইনের বোতল ছিঁড়ে নিয়ে তিনি চতুর্দিকে এলোপাতাড়ি ছুঁড়তে থাকেন।
গৌতম ভারতীর উন্মত্ত আচরণে অসুস্থ অবস্থাতেও অন্যান্য রোগীরা দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দেন। ইঞ্জেকশন দিতে আসা সিস্টার ভয়ে দৌড় চলে যান। ডাক্তাররাও ভয় পেয়ে যান। ডাক্তার এবং সিস্টারদের অনুরোধ সত্ত্বেও গৌতম ভারতর উন্মত্ততা বন্ধ হয়নি। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাধ্য হন পুলিশকে খবর দিতে। তাঁরা লালবাজার এবং বৌবাজার থানায় ফোন করেন। দু ঘণ্টা পরে প্রায় রাত নটা নাগাদ পুলিশ আসে হাসপাতালে। ডাক্তারদের উপরোধ অনুরোধে যে কাজ হয়নি, পুলিশ আসামাত্রই সে কাজ সমাধা হয়। পুলিশ দেখেই গৌতম ভারতী চুপচাপ তাঁর বেডে শুয়ে পড়েন। এই প্রতিবেদক রাত দশটা নাগাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তিনতলার ওই ওয়ার্ডে গিয়ে দেখেন চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে স্যালাইনের বোতল ভাঙা কাচের টুকরো। চিকিৎসারত ডাক্তাররা জানান, সম্প্রতি যুক্তিবাদীরা ‘অলৌকিক শক্তিধর’ গৌতম ভারতীর ‘শক্তি’কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। সম্ভবত, সেই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে না পারার আশঙ্কায়, গৌতম ভারতীর মধ্যে ‘মস্তিষ্ক বিকৃতি’র লক্ষণ দেখা দিয়েছে। অ্যাপেণ্ডিসাইটিসের যন্ত্রণা তাঁকে ইন্ধন যুগিয়েছে। ফলে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে তিনি সম্ভবত আত্মহত্যায় প্ররোচিত হন। ডাক্তাররা জানান, গৌতম ভারতীর শারীরিক অবস্থা এখন আর সঙ্কটজনক নয়। বুধবার রাত সওয়া নটা নাগাদ গৌতম ভারতীকে দেখতে আসেন একজন মনস্তত্ত্ববিদ। চিকিৎসারত ডাক্তাররাই তাঁকে ডেকে আনেন। এদিন সন্ধ্যায় গৌতম ভারতীর উম্মত্ত আচরণের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মনস্তত্ত্ববিদ বলেছেন, রোগীর (গৌতম ভারতী) সম্ভবত রোজ সন্ধায় মদ, গাঁজা খাওয়ার অভ্যাস আছে। এদিন (বুধবার) সন্ধায় তা না পাওয়ায় তিনি হিংসাত্মক হয়ে উঠে ভাঙচুর করেন। তবে, আরও পর্যবেক্ষণ না করে সঠিক সিদ্ধান্তে আসা যাবে না বলে মনস্তত্ত্ববিদ মন্তব্য করেছেন।