প্লেটো বলেছিলেন, “মহান মিথ্যে ছাড়া রাষ্ট্র চালানো যায়
না।” এই ‘মহান মিথ্যে’ দিয়েই শোষিত মানুষগুলোর
প্রতিবাদের কণ্ঠ, বিপ্লবের ইচ্ছে, একত্রিত সংগ্রামের
প্রয়াসকে প্রতিহত করার চেষ্টা চলেছে
ধারাবাহিকভাবে।
এককালে ‘ঈশ্বরতত্ত্ব’ মহান মিথ্যে হিসেবে যতখানি কার্যকর ভূমিকা নিয়েছিল এখন আর ততখানি জোরালো ভূমিকা পালন করতে পারছে না। অর্থনৈতিকভাবে উন্নত দেশগুলির রাষ্ট্রশক্তির কাছে ঈশ্বরের জীবন্ত প্রতীক হিসেবে অবতারদের হজাজির করার প্রয়োজনীয়তা তাই অনেক কমেছে। রাষ্ট্রশক্তি এখন বিজ্ঞান বিরোধিতা করতে বিজ্ঞানীদের উপরই বেশি করে নির্ভর করছে। এসেছে প্যারাসাইকোলজিস্টের দল, যারা বিজ্ঞানের নামাবলি গায়ে দিয়ে বিজ্ঞানেরই বিরোধিতা করতে চায়। উদ্দেশ্য—বিজ্ঞানমনস্কতার ছোঁয়া থেকে সাধারণ মানুষকে দূরে রাখা।
সম্প্রতি সোভিয়েত বিজ্ঞান আকাদেমি ঘোষণা করেছে, তারা পরীক্ষা করে দেখেছে শসোভিয়েত ইউনিয়নের মেয়ে কুলাগিনা অতিপ্রাকৃত কখমরাত অধিকারী। ইতিমধ্যে কুলাগিনাকে নিয়ে ফিল্ম তোলা হয়েছে। নিজের দেশে এবং বিদেশে দূরদর্শনের মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষের সামনে কুলাগিনাকে অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হিসেবেই হাজির করা হয়েছে। সোভিয়েত পত্র-পত্রিকায় কুলাগিনা সম্পর্কে বিজ্ঞান-আকাদেমির সিদ্ধান্তের কথা অতি গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হওয়ায় ইতিমধ্যেই বিজ্ঞান আন্দোলন ও যুক্তিবাদী আন্দোলনের অলৌকিক বিরোধী বক্তব্যের ক্ষেত্রে বহু মানুষের মধ্যেই যথেষ্ট বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের যুক্তি রুশ সায়েন্স আকাদেমি কি আর মিথ্যে বলেছে? ওদের কাছে আমরা ভারতীয় বিজ্ঞান আন্দোলনকারীরা তো ধর্তব্যের মধ্যেই পড়ি না। ভারতস্থ সোভিয়েত দূতাবাস থেকে প্রকাশিত ‘যুব সমীক্ষা’য় কুলাগিনাকে নিয়ে একটি বহু ছবি-সহ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনেও বিজ্ঞান আকাদেমির পরীক্ষা গ্রহণ ও সিদ্ধান্তের কথা লেখা ছিল। ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ‘যুব সমীক্ষা’কে এই প্রসঙ্গে একটি চিঠি দিয়ে জানিয়েছি আমাদের সমিতির কর্মপদ্ধতি। জানিয়েছি, আমাদের সমিতির একটি দল কুলাগিনার ঘটানো অলৌকিক ক্ষমতার পরীক্ষা গ্রহণে ইচ্ছুক। এও জানিয়েছি, কুলাগিনার ঘটানো