প্রকাশ থাকে যে তাঁর ঘোষিত অর্থের আমার কোনো প্রয়োজন নেই। মিলনের সূত্রপাত ঘটলে তিনি ইচ্ছে করলে তাঁর ঘোষিত অর্থ কোনো নির্মীয়মাণ মুসলিম ছাত্রীআবাসে বা কোন অরফ্যানেজে নিজ পছন্দ মতো দান করে দেবেন।
কাজী খোদা বক্স সিদ্দিকী'র চিঠিটি আমার নজরে আসতেই সঙ্গে সঙ্গে ৭ জানুয়ারি একটি উত্তরও পাঠিয়ে দিই ‘আলোকপাত’ পত্রিকার দপ্তরে। চিঠিটি এখানে তুলে দিচ্ছি।
আলোকপাত জানুয়ারি ’৮৮ সংখ্যায় ‘পাঠকদের অধিকার’ বিভাগে কাজী খোদা বক্স সিদ্দিকী'র একটি চিঠি প্রকাশিত হয়েছে। চিঠিটিতে কাজী খোদা বক্স সিদ্দিকী আমাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছেন, সম্পূর্ণ ধর্মীয় প্রক্রিয়ায় তিনি আমার মনের মতো নারীকে আমার জীবন সঙ্গিনী করে দিতে পারেন। কাজী জানতে চেয়েছেন আমি তাঁর চ্যালেঞ্জ গ্রহণে আগ্রহী কি না? চিঠিতে এক জায়গায় লিখেছেন অহংকারের বশবর্তী হয়ে আমি চ্যালেঞ্জ করে বসেছি। উত্তরে বিনীতভাবে জানাই—এই চ্যালেঞ্জ কোনও অহংকার নয়, এই ‘চ্যালেঞ্জ’ যুক্তিবাদী আন্দোলনের একটি উল্লেখযোগ্য পর্যায়। প্রচার ও বিজ্ঞাপনের দৌলতে যে গরুগুলো গাছে চড়ে বসেছে, তাদের মাটিতে নামিয়ে এনে আবার ঘাস খাওয়াতেই এই ‘চ্যালেঞ্জ’। অবতার, জ্যোতিষী, অলৌকিক ক্ষমতার দাবিদার ও তাদের উচ্ছিষ্টভোগী এবং অন্ধভক্তদের কাছে অথবা কিছু ঈর্ষাকাতরদের কাছে ‘চ্যালেঞ্জ’ ‘অশোভন’ 'অহংকার' ইত্যাদি মনে হতেই পারে, কারণ ‘চ্যালেঞ্জ’ বাস্তব সত্যকে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরে। সাধারণ মানুষের কাছে কিন্তু ‘চ্যালেঞ্জ’ বিষয়ে জনপ্রিয় প্রশ্ন এটাই—যেখানে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেই দাবি প্রমাণ করা যায়, সত্য প্রকাশিত হয়, সেখানে চ্যালেঞ্জ গ্রহণে দ্বিধা থাকবে কেন? অলৌকিকতার বিরুদ্ধে এই চ্যালেঞ্জ যুক্তিবাদী আন্দোলনের, কুসংস্কার মুক্তির আন্দোলনের অতি শক্তিশালী হাতিয়ার।
আমি বিবাহিত। তাই আমার মনের মতো নারীকে জীবনসঙ্গিনী করার প্রশ্নই ওঠে না। আমার এক তরুণ চিকিৎসক বন্ধু অনিরুদ্ধ কর অবিবাহিত। কাজী খোদা বক্স সিদ্দিকী যদি অনিরুদ্ধের পছন্দমতো এবং আমার নির্দেশমতো মেয়েটিকে অনিরুদ্ধর জীবনসঙ্গিনী করে দিতে পারেন তাবে অনিরুদ্ধের বিয়ের সাত দিনের মধ্যেই কাজী সাহেবের ইচ্ছেমতো প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেব পঞ্চাশ হাজার টাকা, এবং সেই সঙ্গে স্বীকার করে নেব—পৃথিবীতে অলৌকিক