বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (দ্বিতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/২৫৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৫০
অলৌকিক নয় লৌকিক ২

উঠলাম। তিন কলম জুড়ে ছবি-সহ একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনটি নিঃসন্দেহে অলৌকিক বিশ্বাসীদের ও অলৌকিক ব্যবসাদারদের নব বলে বলীয়ান করবে, কিন্তু দোদুল্যমান মানুষকে অলৌকিকতায় বিশ্বাসীদের শিবিরে টেনে নিয়ে যাবে, কিছু যুক্তিবাদীরও অস্বস্তি ঘটাবে, বিভ্রান্ত করবে।

 প্রতিবেদনটি এই রকম:

‘জাগ্রত’ নরমুণ্ড সিগারেট টানল

আজকালের প্রতিবেদন: গা ছমছমে তারাপীঠ শ্মশানেই শুটিং হচ্ছে ‘তান্ত্রিক’ ছবির। এই ছবিতে অভিনয় করছেন তারাপীঠের মহাতান্ত্রিক নির্মলানন্দ তীর্থনাথ স্বয়ং। দ্বারকা নদীর ধারে তারাপীঠ শ্মশানের ওপরেই নির্মলানন্দ তীর্থনাথের ছোট আশ্রমটাই লোকেশনে। আশ্রম না বলে একটা ছোটখাটো কুঁড়েঘরই বলা উচিত। যার মধ্যে বাস নির্মলানন্দ তান্ত্রিক সাধনা করেন। তাঁর বেদির নিচেই পোতা রয়েছে একটা ন বছরের মেয়ের মৃতদেহ। ঘরের চারধারে নরমুণ্ড সারি সারি সাজানো। মাঝখানে হোমকুণ্ড। এর মধ্যে একটা নরমুণ্ডের পুরোপুরি অভিনেতা।

 তন্ত্র নিয়েই ছবি। পরিচালক অঞ্জন দাসকে এ ব্যাপারে পুরোপুরি সাহায্য করছেন তান্ত্রিক নির্মলানন্দ তীর্থনাথ নিজেই। তন্ত্র হল বিজ্ঞান, কোণের দিকে আঙুল তুলে নির্মলানন্দ বললেন, এটা জাগ্রত। আমিই জাগিয়ে রেখেছি একো দিনে সিগারেট ও পাবেই। বলেই একটা সিগারেট নরমুণ্ডের মুখে গুঁজে দিলেন তীর্থনাথ। নরমুণ্ড সিগারেট খেতে শুরু করল অবিকল জীবন্ত মানুষের মতো। নির্মলানন্দ এদিকে শুটিং জোনে গিয়ে নিজের সংলাপ বলে এলেন। সন্ধ্যা রায়, অনুপকুমারের সামনে। এ ছবিতে তন্ত্রের সমস্ত ধারাই আসবে। আসরে শবসাধনা। যেখানে মৃতদেহ সরাসরি চিতা থেকে তুলে আনবেন নির্মলানন্দ তীর্থনাথ। পরিচালক অঞ্জন দাস নিজেই এই তান্ত্রিক ছবির আলোকচিত্রী। তাঁর ভয় এই সব দৃশ্য তিনি ক্যামেরায় সাহস করে শেষ অবধি ধরতে পারবেন কি না।

‘তন্ত্র’কে আকর্ষণীয় করার জন্যে এই ছবিতে একটা গল্প থাকছে। আর সেখানেই অভিনয় করছেন সন্ধ্যা রায়, অনুপকুমার প্রমুখরা। আসলে তন্ত্রের গোপন রহস্যকে তুলে ধরার জন্যেই এই ছবি। আর সেই শর্তেই এই ছবিতে অভিনয় করতে রাজি হয়েছে তারাপীঠ শ্মশানের তান্ত্রিক নির্মলানন্দ ও তার সাধন মা শুক্লাতিথি বসু। রাতের শ্মশানে চিতায় হোম সেরে ভোর হতেই শুটিংয়ে নেমে