পড়ছেন এখন তারাপীঠের তান্ত্রিক। যিনি দীর্ঘ বারো বছর সাধনার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন, তাঁকে ফিল্মে বন্দী করার মতো কঠিন কাজ করছেন পরিচালক অঞ্জন দাস।
প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যে এই বিষয়ে আমাদের বক্তব্য জানতে চেয়ে রাশি রাশি চিঠি এলো।
২৬ ফেব্রুয়ারি সমিতির তরফ থেকে একটা চিঠি পাঠালাম ‘আজকাল’ পত্রিকার দপ্তরে। ৬ মার্চ চিঠিটি প্রকাশিত হল।
জাগ্রত নরমুণ্ড : একটি চ্যালেঞ্জ
১৬ ফেব্রুয়ারির আজকাল পত্রিকায় প্রকাশিত ‘জাগ্রত নরমুণ্ড সিগারেট টানল’ প্রতিবেদনটি পড়ে জানতে পারলাম ‘তান্ত্রিক’ ছবির শুটিং হচ্ছে তারাপীঠ শ্মশানে। তন্ত্রসাধনা নিয়ে তোলা হচ্ছে ছবিটি। তন্ত্র-সাধনাকে তুলে ধরার স্বার্থে অভিনয়ে রাজি হয়েছে তান্ত্রিক নির্মলানন্দ তীর্থনাথ ও তাঁর সাধন মা শুক্লাতিথি বসু। ছবিটির পরিচালক অঞ্জন দাস। নির্মলানন্দ নাকি দাবি করেছেন—তন্ত্র হল বিজ্ঞান। তিনি নাকি নরমুণ্ডকে তন্ত্রবলে জাগ্রত করে রাখেন। প্রমাণ হিসেবে নরমুণ্ডের মুখে গুঁজে দিয়েছিলেন একটা সিগারেট। নরমুণ্ড সিগারেট টানতে লাগল অবিকল জীবন্ত মানুষের মতো।
‘আজকাল’-এর মতো একটি সমাজ সচেতন ও যুক্তিবাদী আন্দোলন প্রসারে অগ্রণী পত্রিকায় খবরটি প্রকাশিত হওয়ায় স্বভাবতই বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে খুবই গুরুত্ব পেয়েছে। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে আমার ও আমাদের সমিতির বক্তব্য জানতে চেয়ে রাশি রাশি চিঠি এসেছে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি লেকটাউন বইমেলার সাংস্কৃতিক মঞ্চে আমাদের সমিতির ‘অলৌকিক নয় লৌকিক’ অনুষ্ঠানে তিনজন জাগ্রত নরমুণ্ডের সিগাটে টানার প্রসঙ্গটি উত্থাপন করে ব্যাখ্যা চান। একজন তো কাগজের কাটিংটি পর্যন্ত হাজির করেছিলেন। সাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তির অবসান কল্পে ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্মলানন্দকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি। তিনি নিরপেক্ষ স্থানে প্রকাশ্য সমাবেশে কৌশল ছাড়া মড়ার খুলিকে দিয়ে সিগারেট টানাতে পারলে ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি এবং সমিতির কয়েক’শত সহযোগী সংগঠন ও শাখা সংগঠন তাঁদের সমস্ত রকম অলৌকিক বিরোধী কাজ-কর্ম থেকে বিরত থাকবেন। প্রণামী হিসেবে আমি