হয়নি। প্রকাশিত হলে ওই তান্ত্রিকবাবাজি ও কথা বলতেন না।”
“শেষ অংশে কী ছিল?” গোবিন্দবাবু জানতে চাইলেন।
‘অফিস কপি’ বের করে ওই অংশটুকু পড়ে শোনালাম:
‘প্রসঙ্গত জানাই, ২৫ ফেব্রুয়ারি ৯০ লেকটাউন বইমেলার অনুষ্ঠানে দর্শকদের কাছ থেকে চেয়ে নেওয়া একটি ছবির মুখে সিগারেট গুঁজে দিয়ে আগুন জ্বেলে দিতেই ছবিটি সিগারেট টেনেছে, রিং ছেড়েছে জীবন্ত মানুষের মতোই। উপস্থিত দর্শকরাই সাক্ষী। ঘটনাটা ঘটিয়ে ছিলাম লৌকিক কৌশলে, ছবির ভূতকে জাগ্রত করে নয়।
একই সঙ্গে পরিচালক অঞ্জন দাসের কাছে দাবি জানাচ্ছি—সত্যের নামে মিথ্যা প্রচার করা থেকে এবং অন্ধকার যুগে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা থেকে বিরত থাকুন অথবা আবাদের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে প্রমাণ করুন তন্ত্র হল বিজ্ঞান।
আশা রাখি আমাদের এই দাবির সঙ্গে প্রতিটি সৎ ও শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ ও গণসংগঠন একমত হবেন এবং সোচ্চার হবেন।’
৯ মার্চ ’৯০ বর্তমান পত্রিকাতেও ছবি-সহ চার কলম জুড়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হল—বাংলায় তন্ত্র নিয়ে ছবি হচ্ছে—তান্ত্রিক। প্রতিবেদনটির শেষ অংশে ছিল—‘তারাপীঠের শ্মশানে দাঁড়িয়ে শুটিং স্পটে নির্মলানন্দ বলেছিলেন, “তন্ত্রের প্রভাব এখনও নষ্ট হয়ে যায়নি। কিছু অপপ্রয়োগে তন্ত্র নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হচ্ছে। তন্ত্র এখনও জাগ্রত।” —সেই সময় জনৈক সাংবাদিক বাল ফেললেন, “দেখাতে পারবেন?” —“হ্যাঁ নিশ্চয়ই।” বলেই পাশের কুটিরের ভেতরে নিয়ে গিয়ে দেখালেন বিশাল হোমকুণ্ডর সামনে সার সার খুলি। সেই খুলির মুখে জ্বলন্ত সিগারেট দিলেন— অবিকল মানুষের মতো সেই খুলি সিগারেটে ঘন ঘন টান দিচ্ছে। সাংবাদিকরা বিস্মিত হলেন—বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহু দূর।
১৯ মার্চ ’৯০ বর্তমান পত্রিকায় এর উত্তরও প্রকাশিত হল ‘জনমত বিভাগে।
তান্ত্রিক : চ্যালেঞ্জ জানালো যুক্তিবাদী সমিতি
৯ মার্চ ‘বর্তমান’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘বাংলায় তন্ত্র নিয়ে ছবি হচ্ছে—তান্ত্রিক’ প্রতিবেদনটিতে প্রতিবেদক অপূর্ব চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন জনৈক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তান্ত্রিক নির্মলানন্দ তীর্থনাথ একটি মড়ার খুলির মুখে