বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (দ্বিতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/২৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২২
অলৌকিক নয় লৌকিক ২

আন্দোলন শুরু হয়েছিল, সেই আন্দোলন থেকে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে দিতে ‘যুক্তির বিরুদ্ধে যুক্তি’কে কাজে লাগিয়ে আমেরিকা ও রাশিয়া যুক্তভাবে প্রচারে নেমেছিল নিউক্লিয়ার বোমার বিরুদ্ধে।

 ভারতবর্ষে অসমান বিকাশের ফলে কোনও অঞ্চলে পুরোহিততন্ত্র প্রবল বিক্রমে বিরাজ করছে, কোথাও পরাবিদ্যা সে জায়গা দখল করতে হাজির করেছে কম্পিউটার জ্যোতিষ, অ্যাস্ট্রোপামিস্ট, বিজ্ঞানসম্মতভাবে জ্যোতিষ চর্চার নানা প্রকরণ, আবার কোথাও যুক্তিবাদের সম্প্রসারণ ঠেকাতে মুখোশধারী যুক্তিবাদীদের পথে নামিয়েছে। আমাদের দেশের রাষ্ট্রশক্তি মহান মিথ্যে হিসেবে এ সবের সঙ্গে আসরে নামিয়েছে। লটারি, জুয়া, টেলিভিশন স্ক্রিনে রামায়ণ, মহাভারত, নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান।

বিভিন্ন যুগে ‘মহান মিথ্যে’ পাল্টায়, যুক্তিবাদ কখনওই
একটা স্তরে থাকতে পারে না। প্রতিটি স্তরের
যুক্তিবাদের পাশাপাশি ‘মহান মিথ্যে’
পাল্টায়, পাল্টায় কুসংস্কার।

 আমাদের দেশে যুক্তবাদী আন্দোলন দানা বাঁধতে শুরু করতেই কোনও কোনও বিদেশি রাষ্ট্রশক্তি এবং আমাদের দেশের রাষ্ট্রশক্তি অতিমাত্রায় সচেতন হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রশক্তির কাছে এ এক বিপদ সংকেত। কু-সংস্কার ও জাতপাতের বিশ্বাস যতদিন শোষিত মানুষগুলোর চিন্তাকে আচ্ছন্ন করে রাখবে ততদিন শ্রেণিসংগ্রাম চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগোতে পারবে না। শোষিত একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আর একটি গোষ্ঠীর অবিশ্বাস ও ঘৃণাকে যতদিন বজায় রাখা যাবে, ততদিন প্রাণের মধ্যে শ্রেণিচেতনা, শ্রেণিসংগ্রাম চূড়ান্ত রূপ পাবে না।

 শ্রেণিচেতনা বৃদ্ধি পেলে কুসংস্কার, জাতপাতের মতো বিষয়গুলো দূরে সরে যায়। ইংরেজদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে এই শ্রেণিসংগ্রাম এবং শ্রেণিচেতনাই হিন্দু-মুসলমানদের একসঙ্গে লড়াইতে নামিয়ে ছিল। মাও সে তুং-এর ‘হোনান’ রিপোর্টেও দেখি শ্রেণিচেতনায় উদ্বুদ্ধ কৃষকরা নিজেরাই বাড়ির ‘থানের’ অধিষ্ঠিত কাঠের দেবমূর্তিগুলোকে অপ্রয়োজনীয় এবং কুসংস্কার প্রসূত জ্ঞান করে চ্যালা কাঠ করে জ্বালানি বানিয়েছিল।

 আমাদের দেশে ‘যুক্তিবাদ’ এখন আন্দোলন গড়ার স্তরে। প্রতিরোধে স্বার্থান্বেষী মহল অতি সচেতন। ‘যুক্তিবাদী আন্দোলন থেকে সাধারণ মানুষকে দূরে সরিয়ে