দেখতে যান তখন অন্য সকল দর্শনীয় দ্রব্যের সঙ্গে এই নরমুণ্ডের সিগারেট টানা দেখে অবাক হন। তাঁরা পত্রিকায় একথা প্রকাশ করেন। চ্যালেঞ্জ থেকে চ্যালেঞ্জে আসতে বাধ্য হলাম। প্রবীর ঘোষ যেন এই চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার দশ দিনের মধ্যেই নিজের হাতে আমার সামনে এসে পরীক্ষা করেন। ওই পরীক্ষা ওই মহাশ্মশান বা আশ্রমেই করতে হবে। কারণ সাধনার বস্তু কখনই বাজারের ফলমূলের মতো তুলে আনা যায় না। যদি উনি না আসেন, তাহলে আমার যা করণীয় তা করব। আমি তান্ত্রিক না সাধক জানি না তবে মাকে নিয়ে পড়ে আছি।
নির্মলানন্দ তীর্থনাথ।
তারাপীঠ মহাশশ্মশান।
চণ্ডীপুর। বীরভূম।
৪ এপ্রিল ’৯০ ‘বর্তমান’—পত্রিকাতেও প্রকাশিত হল নির্মলানন্দের চিঠি।
প্রসঙ্গ : তান্ত্রিক
গত ৯ মার্চ ‘বর্তমান’ সংবাদপত্রে ‘বাংলায় তন্ত্র নিয়ে ছবি হচ্ছে তান্ত্রিক’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল, আমি সাংবাদিকদের সামনে একটি মাথার খুলির মুখে জ্বলন্ত সিগারেট গুঁজে দেওয়ায় সেই খুলি সিগারেট ঘনঘন টান দিচ্ছিল। একথা সম্পূর্ণ সত্যি। এরপর গত ১৯ মার্চ আমার চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির সম্পাদক প্রবীর ঘোষ একটি চিঠি লিখেছেন। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে জানাই, স্বামী অভেদানন্দের লেখা বইটি হয়তো তাঁর পড়া নেই। আত্মার কোনও মৃত্যু নেই। তন্ত্র সাধনা আত্মা নিয়ে খেলা এবং এটা বই পড়ে হয় না। কঠোর পরিশ্রম, সাধনা সেই সঙ্গে ঈশ্বরের কৃপা থাকলে তবেই এটা সম্ভব হয়। নরমুণ্ডের সিগারেট টানার ব্যাপারটা ‘তান্ত্রিক’ ছবির মধ্যে নেই। সাংবাদিকরা অন্য সকল দর্শনীয় বস্তুর সঙ্গে এটা দেখে অবাক হয়ে যান এবং একথা পত্রিকার প্রকাশ করেন। আমি চ্যালেঞ্জের জবাবে চ্যালেঞ্জ জানাতে বাধ্য হলাম। এই চিঠি প্রকাশিত হবার দশ দিনের মধ্যে প্রবীরবাবু যেন নিজের হাতে আমার সামনে এই পরীক্ষা করেন। এই পরীক্ষা তারাপীঠের মহাশ্মশানেই করতে হবে। কারণ, সাধনার বস্তু কখনই বাজারের ফলমূলের মতো তুলে আনা যায় না। যদি উনি না আসেন তবে আমার যা করার তাই করব। আমি তান্ত্রিক না সাধক জানি