স্নায়ুকোষের কাজ-কর্মের ফলই হল ‘চিন্তা’, ‘চেতনা’ বা ‘মন’। মানুষের মৃত্যুর পর তার মস্তিষ্ক স্নায়ুকোষের অস্তিত্ব বাস্তবে সম্ভব নয়। তাই চিন্তারূপী চৈতন্যরূপী আত্মারও মৃত্যুর পর বাস্তব অস্তিত্ব সম্ভব নয়।
নির্মলানন্দের পরীক্ষা গ্রহণ করতে চেয়েছিলাম নিরপেক্ষ স্থানে এবং প্রকাশ্যে। একবারের জন্যেও অনুরোধ করিনি, আমাদের সমিতির কার্যালয়ে এসে তাঁকে প্রমাণ দিতে হবে। জানতাম নির্মলানন্দ কখনই নিরপেক্ষ স্থানে প্রকাশ্যে কোনও কৌশল ছাড়া নরমুণ্ডকে সিগারেট খাওয়াতে পারবেন না। তাই একান্ত বাধ্য হয়েই উনি প্রকাশ্যে নিরপেক্ষ স্থানে হাজির হতে অক্ষমতা জানিয়েছেন। নারাজ হওয়ার পিছনে একটি কুযুক্তিও হাজির করেছেন—‘কারণ সাধনার বস্তু কখনই বাজারের ফলমূলের মতো তুলে আনা যায় না।’
সিনেমার তো এখন আন্তর্জাতিক বাজার। সেই বাজারে সাধনার ফলকে হাজির করতে পারলে নিরপেক্ষ স্থানে প্রকাশ্যে হাজির করতে অসুবিধে কোথায়? ওঁর আশ্রমে আমি গেলে আমি হারলেও হারব, জিতলেও হারব।
চিঠির শেষে নির্মলানন্দ যে প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছেন, আমার বা আমাদের সমিতির কাছে সেটা নতুন কিছু নয়। এর আগে যখনই আক্রান্ত হয়েছি, দুর্বার জনরোষ আক্রমণকারীদের ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। আক্রমণকারীরা কখনও হয়েছে ফেরার, কখনও বা সচেষ্ট হয়েছে আত্মহননে।
নির্মলানন্দকে আবারও চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি, প্রকাশ্য নিরপেক্ষ স্থানে আপনার ক্ষমতার পরীক্ষা দিয়ে কৌশল ছাড়া নরমুণ্ডকে দিয়ে সিগারেট খাওয়ান। আর প্রকাশ্য স্থানটা কলকাতা প্রেস ক্লাব হওয়াটাই বাঞ্ছনীয়। চ্যালেঞ্জ গ্রহণের ধৃষ্টতা যদি নির্মলানন্দ দেখান, তাঁর মাথা যুক্তিবাদের কাছে নত হতে বাধ্য হবে। আবারও প্রমাণ হবে অলৌকিকত্বের অস্তিত্ব আছে শুধু কল্পকাহিনিতে। ঠাকুরনগর খেলার মাঠে ১৩ এপ্রিল বিকেল তিনটেয় আমাদের সমিতির ‘অলৌকিক নয়, লৌকিক’ অনুষ্ঠানে নির্মলানন্দের ছবিকে দিয়েই সিগারেট খাওয়াব। নির্মলানন্দসহ উৎসাহিতদের উপস্থিতি কামনা করছি।
শুভেচ্ছা সহ
প্রবীর ঘোষ
সাধারণ সম্পাদক
ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি
৭২/৮, দেবীনিবাস রোড
কলিকাতা-৭০০ ০৭৪