মূর্তি। ওঝা তার কাছে গিয়ে বসল। ওঝার কাছে ছিল একটি আলো এবং একটি হাড়ির লাটা। ইন্দ্রের মা তখন আলোর দিকে তাকায়নি, অন্যদিকে তাকিয়ে আছে। “আলোটার দিকে একবার মুখ ঘুরা মা”–এই বলে ওঝা আলোটা তার মুখের দিকে নিয়ে যায়। তখন ইন্দ্রের মায়ের মুখ ঢাকা নিয়ে অন্য দিকে তাকায় এবং একটু করে হাসছে। তখন ওঝা বাইরে এসে ইন্দ্রকে বলে যে, “প্রকৃত ডাইনি ভর করেছে।” ওঝাকে জিজ্ঞাসা করলাম, “কী করে বুঝলে যে ডাইনি ভর করেছে?” ওঝা তার উত্তরে আমাদেরকে বলল, তার কতগুলো নিয়ম আছে, “যেমন আলোর দিকে তাকায় না, আতা পাতা দিলে তার রাগ হয়। যদি না বিশ্বাস হয় যা দেখি একজন আতা পাতা নিয়ে তার কাছে দিয়ে আয়।” কিন্তু কে যাবে—সবাই এর মনে একটা ভয় আছে। গৌর নামে বছর ৩৫/৩৬-এর একজন লোক এই কথা শুনে কিছু আতা পাতা নিয়ে তার কাছে গেল। যেমনি বিছানার কাছে এসেছে, তেমনি সে তাকে তাড়া করে নিয়ে যেতে লাগল। গৌর তখন কি তার বিছানায় আতা পাতা দিবে- ভয়ে ঘর থেকে পালিয়ে এল। তারপর আবার সে বকাবকি আরম্ভ করে দিল। ওঝা বারণ করে বলল, “শুধু শুধু তার সঙ্গে লাগিস না।”
তখন আর কেউ না লাগিয়ে ওনার রহস্য দেখতে লাগল। ওঝা একটি পাত্রে কিছু আগুন রেখে, মুখে কি বিড় বিড় করে বলল, তারপর আগুনের মধ্যে কিছু ধুনা ফেলে দিল। ইন্দ্রের মা “ছাড়-ছাড়, আমি ঘর যাব”, এই বলে ওঝার কাছ থেকে চলে এল। কিছুটা গিয়ে ইন্দ্রের যা ফিরে এল। এইভাবে ওঝা তিন-চার বার করার পরেও যখন তার গন্তব্য স্থানে পৌঁছতে পারল না, আবার সে ফিরে এল। ওঝা তখন বুঝতে পারল যে, এখন ডাইনির ভর তার গা থেকে যাবে না। সন্ধ্যার সময় যাবে। ওঝার এই কথা শুনে একজন বলল যে, কোথাকার ডাইনি, কোন ডাইনি ভর করেছে? ওঝা কোনো মতেই এই প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি হয় নাই। কারণ তার বিশ্বাস ডাইনি সহজে তার নাম এবং বাড়ি কোথায় বলে না। বেশি আলতু-ফালতু জিজ্ঞাসা করলে কণ্ঠা ফেলে দেয়। তবু তাকে কোনো মতে রাজি করানো গেল। ওঝা তখন ইন্দ্রের মাকে স্বাভাবিকভাবে জিজ্ঞাসা করছে যে, “তুমি কোথায় এসেছ?” এর উত্তরে ইন্দ্রের মা বলল, “কেন আমার পুত্রাবাড়ি এসেছি।” আবার “কি জিজ্ঞাসা করতে এসেছ?” “আমার দরকার ছিল তাই এসেছি।” “তুমি কবে এসেছ”, “কাল থেকে এসেছি।” এই কথা শুনে সবাই মনে ভাবতে লাগল কোথার ডাইনি কেউ বুঝতে পারছে না। ওঝা জিজ্ঞাসা করছে,