বস্তুগত ভিত্তি নেই (অন্তত সাধারণের কাছে), আর আমরা যেহেতু ইলেকট্রনিক্স-এর যুগে বাস করছি সেহেতু স্বভাবতই এর পেছনে একটা বৈজ্ঞানিক ধারণা (যদিও মৌলিক নয়) চালাবার চেষ্টা করি আর সেখানেই আমরা সব থেকে বেশি ভুল করি বলেই আমার ধারণা। আমার অবশ্য বিজ্ঞান চিন্তাধারা অনেকটা সীমিত তবু এর মধ্যেই বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করি, কোনও দিন সফলকাম হতে পারিনি। মানুষকে বোঝাবার চেষ্টা করি এসব এক ধরনের রোগ কিন্তু কী রোগ তার কোনও সফল ব্যাখ্যা দিতে পারি না কারণ আমি নিজেও জানি না ব্যাপারটা আসলে কী?
একটা ঘটনার কথা উল্লেখ করি, কয়েকদিন আগে আমারই এক বন্ধুর বোন, বয়স ৯/১০ বছর হঠাৎ শুনলাম তার নজর লেগেছে। গ্রামের লোকের কথায় ডাইনি লেগেছে। তড়িঘড়ি করে ছুটলাম, আমার বাড়ির ৩০০ গজের মধ্যে তার বাড়ি। গিয়ে দেখি মেয়েটি মুখ ঢেকে হাত-পা ছুঁড়ছে, কখনো হাসছে কখনো কাঁদছে। মুখ থেকে হাত সরিয়ে দেবার চেষ্টা করলাম তখন তিন জন সমর্থ পুরুষ হিমশিম খেয়ে গেলাম তাকে সামলাতে। এবার গ্রামের প্রথামতো আতা পাতা বিছানায় দিলাম। তখন সেকি ঝটফটানি সামলে রাখা দায়। ছেড়ে দিলাম, সবিস্ময়ে দেখলাম সমস্ত পাতাগুলো ফেলে না দেওয়া পর্যন্ত তার যেন স্বস্তি নেই। সবাই একমত হলেন যে ওকে ডাইনি ভর করেছে ওঝা ডাকার ব্যবস্থা করা হলো। অবশ্য আমরা মানে আমি এবং আমার বন্ধু যারপরনাই চেষ্টা করলাম কিন্তু কিছুতেই কিছু হল না। অবশেষে ওঝা এসে মন্ত্র পড়ে ধুনোর এ বামর (‘একটি পলতেতে আগুন জ্বালিয়ে সেই শিখার উপর দিয়ে ধুনোর গুঁড়োর ঝাঙটা মারা’ এতে অনেক সময় রোগিণীর চামড়া পুড়ে যায় চুল পুড়ে যায়) মারতেই সে চিৎকার করে উঠলো “ছেড়ে দে আমি যাব”। বলেই বিছানা থেকে ধড়মড়িয়ে উঠে দৌড় লাগাল এবং একটি বাড়ির দরজার সামনে পড়ে গেলে। সেই বাড়ির একজন মধ্যবয়স্কা স্ত্রীলোক ‘ডাইনি’ বলে পরিচিত। এর কোনো বৈজ্ঞানিক কারণ আমি খুঁজে পাইনি। আর একটি ঘটনার কথা উল্লেখ না করে পারছি না। ঘটনাটি ঘটেছিল আজ থেকে একবছর আগে, আমার মায়ের ক্ষেত্রে। সবেমাত্র টাইফয়েড ছেড়ে পথ্য করেছেন, দেহ বেশ দুর্বল, হাঁটা চলা করেন খুব কম। ঘরের পাশাপাশি সকাল বিকাল একটু বেড়ান। বয়স পঞ্চাশের কোঠায়। সেদিনটা ছিল শনিবার স্কুল থেকে ফিরে মাকে ওষুধ খাওয়ানোর জন্য গিয়েছি। হাত ঘড়িতে তখন বেলা তিনটে। দেখি মুখে আঁচল চাপা দিয়ে মা শুয়ে আছেন আর বিড়বিড়