অর্থাৎ প্রকৃত তত্ত্ব ও তথ্য তুলে দিতে পারিনি। কিছু কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এই বিষয়ে যতটুকু কাজ করেছেন, প্রয়োজনের তুলনায় তা এতই অপ্রতুল যে মানুষের মনের ‘ভূত-প্রেত-ডাইনি’ মন ছেড়ে নির্বাসনে যায়নি। এই বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার, জানানো ও বোঝানোর দায়িত্ব কিন্তু বর্তায় প্রধানত বিজ্ঞান আন্দোলনকর্মী, যুক্তিবাদী আন্দোলনকর্মী, সমাজসেবী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সরকারি প্রশাসনের।
সাঁওতাল সমাজের ডাইনি বিশ্বাস
সাঁওতাল সমাজে ডাইনিদের অলৌকিক ক্ষমতা বিষয়ে বিশ্বাস সমুদ্র-গভীর। এই সমাজের যাঁরা শিক্ষার আলোকপ্রাপ্ত তাঁদেরও সংখ্যা-গরিষ্ঠদের মধ্যেও ডাইনিদের অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা বিষয়ে বিশ্বাস গভীর। একই সঙ্গে তাঁরা জানগুরুদের অলৌকিক ক্ষমতায় ও তাঁদের ডাইনি খুঁজে বের করার ক্ষমতায় আস্থাশীল।
যাঁরা ডাইনি প্রথা বিরোধী আন্দোলনে শামিল হয়েছেন, নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাদের অনেকেই এই বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত: বাস্তবিকই ডাইনি ও জানগুরুর কোনও অলৌকিক ক্ষমতা আছে? কী, নেই?
সিংরাই মুর্মু বাঁকুড়া জেলায় ডাইনি প্রথা বিরোধী আন্দোলনে নেমেছেন সিংরাই মুর্মুর কথায়—
আমাদের সমাজে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি আছে, আদিবাসী ভাষায় এদের সানি ও ও সখা বলে। ভালো কথায় জানগুরু। ইতি ভূত প্রেত ধরতে জানেন এবং কেউ ডাইনি হলে ঠিক রকম বলতে পারলে কিন্তু ডাইনি ছাড়াতেও পারে অবশ্য সেই জন্য মোটা টাকা দক্ষিণা হিসেবে দাবি করে। এবং ডাইনি কাউকে করিলে জরিমানা করা হয় বা দিতে হয়। কিন্তু যার দু মুঠো অন্ন সময়ে জোটে না, জীবন শেষ হয়ে যায় তার পক্ষে মোটা টাকা দেওয়া কি রকম কষ্টকর তা সহজেই অনুমেয়। এই ব্যাপারে আমরা বহু সমাজ সমিতি করেছি এবং বহু জায়গায় আমরা আদিবাসীর সমাজে সে আলোচনা করেছি কিন্তু তাতেও কোনো পড়েনি—বেশির দিকে চলে যাচ্ছে এবং এই ডাইনি বাংলার বিভিন্ন রাজ্য সরকারের কাছে আমাদের বহুবার তুলে দিয়েছিলাম। কি ভারতবর্ষে সমাজ দিককে নিপুগ্ধকর এবং পুলিশদের হাতেও এই ব্যাপারে তুলে দিয়েছিল, কিন্তু কোনো ফায়দা হয়নি। সে জন্য আমি নিজে ব্যক্তিগত