বিষ নামবে ততক্ষণ ঐ সরা আছাড় মেরেও কেউ ভাঙতে পারবে না। তবে কোনো সাপে কাটা রোগীকে যদি কোনো ডাইনি ভেড়ে দেয় তাহলে কোনো রোজার বাপের সাধ্যি নেই বিষ নামায়। এইজন্য কাউকে সাপে কাটলে সে কথা রোজার কাছে ছাড়া কারো কাছে প্রকাশ করতে নেই। বলা যায় না কার পেটে কী আছে, যদি ভেড়ে দেয় তখন প্রাণ নিয়ে টানাটানি। ডাইনিকে তো আর আলাদা করে চেনা যায় না। আমাদের মতোই মানুষ সে। সুতরাং চেনা দায়। আমাদের পাড়াতেও তো এমনি এক ডাইনি বুড়ি আছে। গরুর বাচ্চা হলে এরা বাঁটের দুধ শুকিয়ে দের মন্ত্র দিয়ে। সদ্য প্রসূতি মায়েদের এমন মাখ ভেড়ে দেবে ছেলে আর মাই খাবে না। মাইয়েতে যন্ত্রণা হবে। তখন আবার রোজার কাছে যাও, সে জলপড়া দিয়ে ঝাড়ফুঁক দিয়ে তবে ভাল করবে। সঙ্গে সঙ্গে তারা মাদুলিও দিয়ে দেয় পাঁচসিকে আড়াই টাকা দাম মূল্য নিয়ে, যাতে ঐ ডাইনিতে পুনর্বার আর মাই না ভাড়তে পারে। গরুর গলাতে জিওলের বোল বেঁধে দিলেও ডাইনিরা আর ভাড়তে পারে না। আবা কারো গায়ে ঘা-ছি হলেও রক্ষে নেই। অমনি ডাইনিরা পাকা আমের মতে গন্ধ পায়। সঙ্গে সঙ্গে ভেড়ে দেয় তারা। তখন সেই যা আর মোটে সারতে চায় না।
তবে ডাইনিদেরও জব্দ করার রাস্তা আছে। নিজের পায়খানা নিয়ে ওকে খাইয়ে দাও, ব্যস, ডাইনি তার মন্ত্র ভুলে যাবে। এমনি একবার এক ঘটনা ঘটেছিল—এক বউয়ের শাশুড়ি ডাইনি ছিল। তা বউয়ের পায়ে হোঁচট লেগে খানিকটা কেটে গেছিল। অমনি ডাইনি তা থেকে পাকা আমের গন্ধ পেল। সে আর লোভ সামলাতে পারল না। নিজের বউকেই ভেড়ে দিল। তা বউ তো ডাক্তার বদ্যি দেখিয়ে সারা। কত পয়সা খরচ হতে লাগল, কত ওষুধ খেল কিন্তু সেই ঘা আর ভাল হতে চায় না। হবে কী করে, ঘরেতেই যার ডাইনি। বরং দিনে দিনে তার ঘা আরো বাড়তে লাগল। বউ তো মহাচিন্তায় পড়ল। সোয়ামিকে বললে বলে—তোমার জন্যে কি আমি মাকে দূর করে দোব।
চিন্তায় চিন্তায় বউ তো শুকোয়। তখন গাঁয়ের এক তিন মাথা বুড়ি তাকে পরামর্শ দিল। বলে—ওলো বউ, তুই বরং এক কাজ কর, তোর শাউড়িকে ডালের সঙ্গে গু খাইয়ে দে, দেখবি ও ওর ডাইনি মন্ত্র ভুলে যাবে। নিরুপায় বউ তাই করল। ডাইনিও তার মন্ত্র ভুলে গিয়ে দিনে দিনে রুগ্ণ হয়ে একদিন মরে গেল। সেজন্য অবশ্য বউ ডাক ছেড়ে খুব কেঁদেছিল। কারণ শাউড়ী