ডাইনি হলেও তার মরণ তো সে চায়নি।”
ধীরেন্দ্রনাথ বাস্কে ডাইনি প্রথা বিরোধী আন্দোলনের এক উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব। তিনি তাঁর ‘আদিবাসী সমাজের সংস্কার ও কুসংস্কার’ লেখাটিতে এক জায়গায় বলছেন, ‘এটাকে (ডাইনি প্রথাকে) কুসংস্কার কিংবা অন্ধ বিশ্বাস যাই বলি না কেন, ভারতবর্ষের প্রায় সব আদিবাসী সমাজেই এই ক্ষতিকারক বিদ্যার চর্চা দেখা যায়। যদিও সকলেই জানে এর প্রয়োগ অসামাজিক তবুও তারা এর মোহমুক্ত হতে পারেনি। আদিবাসী সমাজের কাছে এটা নিদারুণ অভিশাপ।
অর্থাৎ শ্রীবাস্কের ধারণায়—ডাইনির মতো একটা ক্ষতিকারক বিদ্যার চর্চা চলছে। ক্ষতিকারক মানে? ডাইনি বিদ্যার সাহায্যে, ডাইনি ক্ষমতার সাহায্যে মানুষের ক্ষতি করা সম্ভব? অর্থাৎ ডাইনিদের অলৌকিক ক্ষমতা আছে? শ্রীবাস্কে আরও বলছেন, ‘অনেক আদিবাসী সমাজের বিশ্বাস, তুর্ক-তাক ও ইন্দ্রজাল (black magic) বিদ্যায় মেয়েরাই পারদর্শী হয়। স্বাভাবিক কারণেই তারা দুর্বল। সমাজে নানা কাজে পবিত্রতা রক্ষার জন্য তাদের অনেক কিছু স্পর্শ করতে দেওয়া হয় না। বিশেষ করে ঋতুবতী নারীর সম্পর্কে কিছু কিছু সংস্কার পৃথিবীর সব সমাজেই প্রচলিত আছে। এই অবহেলার জন্য অনেকে ক্রুদ্ধ হয় আর প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য এ বিদ্যা আয়ত্ত করে থাকে।”