বাস্তবিকই কি 'ডাইনি-বিদ্যা'র অস্তিত্ব আছে? ডাইনি-বিদ্যায় অন্যের মধ্যে রোগ সংক্রামিত করা যায়? উচাটণ-মারণ মন্ত্রে যে কোনও প্রাণীর মৃত্যু ঘটানো সম্ভব?
শ্রী বাস্কের প্রগতিশীল সংগ্রামী মন অবশ্য সেইসঙ্গে একথাও বলে, ‘এ সব মেয়েরা নিজ স্বার্থসিদ্ধির জন্য অন্যের ক্ষতি করে এবং তারা মনে করে যে অন্যের ক্ষতি করার স্বাভাবিক ক্ষমতা তাদের আছে। এ ক্ষতি হয়তো কোনো অলৌকিক উপায়ে ঘটে না, কৌশলে কার্যকারণের যোগসাজশেই এ সব হয়তো ঘটিয়ে থাকে।’
শ্রী বাস্কের মনেই সংশয় থেকে গেছে—হয়তো ডাইনিরা অলৌকিক উপায়ে ক্ষতি সাধন করে না। অর্থাৎ ডাইনিরা হয়তো অলৌকিক উপায়েই ক্ষতি সাধন করে। শ্রীবাস্কের মনেই যদি ডাইনিদের অলৌকিক ক্ষমতা আছে কি নেই—এই বিষয়ে সংশয় থাকে তাহলে সাধারণ সাঁওতাল সমাজের মানুষের ডাইনিদের অলৌকিক ক্ষমতার বিষয়ে প্রগাঢ় বিশ্বাস থাকাটাই স্বাভাবিক।
শ্রীবাস্কে ডাইনি প্রথার বিরুদ্ধে কতকগুলো উপায় উল্লেখ করেছিলেন। তার মধ্যে ডাইনি বিদ্যার অপকারিতা সম্পর্কে নাটক মঞ্চস্থ ও তথ্যচিত্র তোলার কথা ছিল। কিন্তু ডাইনি বিদ্যা বলে বিদ্যাই যেখানে কল্পনা মাত্র, সেখানে ডাইনি বিদ্যার পক্ষে বা বিপক্ষে বলার প্রশ্নই উঠতে পারে না। বাস্তব সত্যকে সাধারণের সামনে তুলে ধরা আমাদের অবশ্যই প্রয়োজনীয় এবং আদিবাসী সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য সহজসরল যুক্তি দিয়ে বোঝাতে হবে—ডাইনি বিদ্যা বলে কোনও বিদ্যার অস্তিত্ব নেই। জানগুরু, সখা বা ওঝাদেরও নেই কোনও অলৌকিক ক্ষমতা।
ডাইনি প্রথা বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত যাঁদের কথা এতক্ষণ আলোচনা করলাম, তাঁদের প্রত্যেকের প্রচেষ্টায় ও আন্তরিকতায় আমি শ্রদ্ধাবনত। শুধু এটুকু মনে হয়েছে—তাঁদের আন্তরিকতার সঙ্গে অলৌকিক ক্ষমতা বিষয়ে দৃষ্টির স্বচ্ছতা যুক্ত হলে আন্দোলনে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। ডাইনি প্রথা বিরোধী আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়ে ইতিমধ্যে পত্রিকা ও প্রচারপত্র মারফত দাবি জানিয়েছেন সারদাপ্রসাদ কিসকু, সভাপতি, ‘সাঁওতাল সাহিত্য পরিষদ’, মহাদেব হাঁসদা, সম্পাদক, ‘ভেতরে’, মাসিক পত্রিকা কলেন্দ্রনাথ মাণ্ডি, সম্পাদক ‘সিলি’ দ্বিমাসিক পত্রিকা; গুরুদাস মুর্মু, সম্পাদক, ‘খেরওয়াল জারপা’; বালিশ্বর সরেন, সম্পাদক, ‘জিরিহিরি’।
দাবি-পত্রে তাঁরা জানিয়েছিলেন, ... ভণ্ড জানগুরুদের কথায় বিশ্বাস করে কতঅলৌকিক নয় লৌকিক/২য়—১৮