যে অপরাধ, অন্যায়, অবিচার সংগঠিত হচ্ছে, তা বলে শেষে করা যায় না। প্রকৃতপক্ষে ডাইনি প্রথা একটা অন্ধ-বিশ্বাস ও কুসংস্কার ছাড়া কিছু নয়। এর কোনো বৈজ্ঞানক ভিত্তি তো নাই-ই, পরোক্ষ কিংবা প্রত্যক্ষভাবে কোনো উপকার পাবার প্রশ্নও নেই। এর মূল সমাজের এত ভিতরে প্রবেশ করেছে যে, এক্ষুণি এর অবসান ঘটানো সাধারণের ক্ষমতার অতীত। স্বাধীনতা প্রাপ্তির দীর্ঘদিন পরেও ভারতের মতো একটা কল্যাণ রাষ্ট্রের এ ধরনের কু-প্রথার অস্তিত্ব বিস্ময়জনক।
এই কুপ্রথার উচ্ছেদকল্পে সরকার যদি আইন প্রণয়ন করেন,
অন্তত ভণ্ড জানগুরুদের বে-আইনি বলে ঘোষণা করেন,
তাহলেই এই ক্ষতিকারক প্রথার উচ্ছেদ সাধিত হতে
পারে। আমরা এ বিষয়ে রাজ্য সরকার ও
কেন্দ্রীয় সরকারের সহানুভূতি কামনা
করছি এবং আশু ডাইনি প্রথা
বিরোধী আইন প্রণয়নের
জন্য অনুরোধ
জানাচ্ছি।
যুগ যুগ ধরে যে বিশ্বাস আদিবাসীদের শ্বাস-প্রশ্বাসে মিশে রয়েছে তা কয়েকজনের ব্যক্তি প্রচেষ্টায় বা কয়েকট স্বেচছাসেবী সংস্থার চেষ্টায় (সে চেষ্টা যতই আন্তরিক ও ব্যাপক হোক না কেন) নিমেষে যাবার নয়। এ জন্য আরও বেশি করে সমাজসচেতন মানুষ ও সংস্থাকে এগিয়ে আসতে হবে, এগিয়ে আসতে হবে সরকারি প্রশাসনকে। দীর্ঘকালীন পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে বহুজনের চেষ্টাতেই সম্ভব এই অবস্থা থেকে উত্তরণ। কিন্তু বহুজন কবে এগিয়ে আসবে এ আশায় বসে না থেকে আমাদের কাজ করতে হবে। আমার কথার কাজ হচ্ছে, কাজ চলছে। বহু আদিবাসীও এ কাজে এগিয়ে এসেছে। এগিয়ে এসেছে কিছু প্রতিষ্ঠান! আমাদের সমিতিও সীমিত ক্ষমতায় আদিবাসীদের অন্ধ সংস্কার থেকে মুক্ত করতে কাজ করছে বিভিন্ন ভাবে। সাড়াও পাচ্ছি বিপুলভাবে আমরা হাজির হচ্ছি একটু নতুন ভাবে। আমাদের সমিতি ‘অলৌকিক নয়, লৌকিক’ শিরোনামে অনুষ্ঠান করতে বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে প্রতিনিয়ত যাচ্ছে, তার মধ্যে আদবাসীপল্লিও পড়ে। যখন যাই তার বেশ কিছুদিন আগে থেকেই স্থানীয় বিশাল অঞ্চল জুড়ে যত জানগুরু, সখা, সৎসখা, দিখলী, ওঝা (সচরাচর