বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (দ্বিতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/২৮০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৭৬
অলৌকিক নয় লৌকিক ২

অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আপাতত কী কী করা যেতে পারে সে প্রসঙ্গেও আসব। কিন্তু তার আগে ‘ডাইনি’ নিয়ে আরও কিছু প্রাসঙ্গিক আলোচনায় যাওয়ার প্রয়োজন অনুভব করছি। সমস্যাটির বিষয়ে মোটামুটি ধারণা না দিয়েই সমাধানের বিষয়ে কিছু বলতে যাওয়াটা বোধহয় সমীচীন হবে না।

বাঁকুড়া জেলা হ্যাণ্ডবুক, ১৯৫১ থেকে

ডাইনি

 ডাইনি হলো আমাদের ‘হড়হপনে’র (সাঁওতালদের) মস্ত জ্বালা। ডাইনির জন্য লোকে শত্রু হচ্ছে। কুটুম্বদের দুয়ার বন্ধ হচ্ছে। বাপে-ছেলেতে ঝগড়া হচ্ছে। ভাইয়ে-ভাইয়ে বিরোধ হচ্ছে। ডাইনি না থাকলে আমাদের অনেক সুখ থাকতো। সাহাব লোকেরা সবই ভাল বিচার করেছেন যতদূর জানা যায়; কিন্তু ডাইনি সম্বন্ধে কি করে যে অন্ধ হচ্ছেন, বুঝতেই আমরা পারি না। ডাইনিরা আমাদের খায়। আমরা ধরে একটু হুড়ুম হুড়ুম করলে, উল্টো আরও হাকিমরা হাজতে দিচ্ছেন; মহা জ্বালায় পড়েছি, কি করলে আমাদের ভাল হবে, দিশেহারা হ’য়ে গেছি। হাকিমদের বুঝালেও তাঁরা বিশ্বাস করেন না। বলেন, কৈ দেখি আমার আঙ্গুল খাক, তবে তো বিশ্বাস করব, ডাইনি আছে বলে—তারপর তোমাকে কয়েদ ক’রে বসল। খাপরি ছুটি নিয়ে ত ডাইনিরা খাচ্ছে না, বিদ্যার জোরে পরপারে পাঠিয়ে দেয়। কি আর একেবারে সোজা। আগে মাঝি, পারানি করা দমন করছিলেন, আর ভাল না হলে, পাঁচ জনে মিলে বে-আবরু করে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দিতে ছিল, আজকাল হাকিমদেরই বশ করে শেষ করল। সেইজন্য সব পুরুষেই ভয়ে পিছিয়ে গেছে। পুরুষ মানুষের কথা আর চলছে না, এখনকার যুগে মেয়েরাই রাজা হয়ে গেছে। একটু বেশী কিছু বলেছ কি টক ক’রে মুখে পুরেছে, সেই ভয়ে চুপ করে থাকে। ডাইনিরা রাত্রে জমা হয়, কোন বনে কি মাঠে। যাবার সময় ঠুটো ঝাঁটা কি কোন কিছু পুরুষের কাছে রেখে যায়, আর তারা মনে করে, ঘরের মানুষ আমার আছেই, কেবল ধাঁধাঁতে ঐ ঝাঁটাকে নিজের লোকের মত দেখে তা না হ’লে ওরা দেবতার কাছে বিয়ে হবার জন্য চলে গেছে। জানেন, হেঁটে ওরা যায় না, কোনো গাছে চড়ে বিদ্যার জোরে হাওয়ার মত যায়। দেবতাদের আখড়ায় নেমে, দেবতাদের সঙ্গে নাচে, সিংহদের ডাকে। চুল আঁচড়িয়ে দেয়, চুমা খায়, তারপর দেবতাদের কাবু করে দিব্যি দেয়, যেন