(৪) দেবতা খুঁড়ে, (৫) দেবতা ছাড়ায়, (৬) লোককে ওষুধ দেয়। রোগী ঔষধে যদি ভাল না হয়, গ্রামের লোক ওঝাকে দিয়ে খড়ি দেখায়। তেল আর শালপাতা নিয়ে আসে, আর সে বসে দুটি পাতাতে তেল মাখাবে, আর মন্ত্র বলতে বলতে ঘষবে ‘তেল তেল রায়ে তেল, মাম তেল, কুসুম তেল, ই তেল পড় হায়েতে, কি উঠো, ডাম উঠো, ভূত উঠো, ফুগিন উঠো, বিষ উঠো, কে পড়ছে, গুরু পড়ছে, গুরু আগতা মাত্র পড়ছে। এরপর মাটিতে একটু রাখবে। তারপর খুলে দেখবে। লোক ওঝাকে জিজ্ঞাসা করবে: দেন বাবা অনুগ্রহ করুন, কী সব পেলেন? বললে তবে তো আমরা বুঝব। ওঝা খড়ি দেখবারই আগে ঠিক করে রেখেছে যে, এখানে হল জান, এখানে হল ঘরের দেবতা, এখানে হল বাইরের দেবতা, এখানে হল দুঃখ আর এখানে হল বিষ। পাতার যে ঘরের দাগ উঠবে হিজিবিজি, সেইটি বলে দেয়, ডাইন হলে ডাইন, দেবতা হলে দেবতা, দুঃখ হলে দূঃখ, আর বিষ হয়ে বিষই। ডাইন যদি উঠে, মাঝি পারামিক সন্ধ্যাবেলা বলে যায়। শুন অমুক, ভামুকের অসুখ করেছে, ভাল যেন হয়, তোমাকেই ধরেছি, ভাল না হলে তোমাকে বলছি না। তাতে ভাল হলে ভালই। তা না হলে দুইজন করে মাঝি চারদিকে তেল দেখাতে পাঠাবে। সন্ধ্যাবেলা জমা হয় আর তেল দেখাতে যে সব লোক গিয়েছিল তাদের একে একে জিজ্ঞাসা করবে। তিন দিক থেকে ডাইন ঠিক করে আনলে বাছবার জন্য ডাল পুঁতবে, আর যদি মিল না হয়, আরও পুনরায় খড়ি দেখিয়ে আসবে।
ঘরের দেবতা যদি ওঠে তাহলে রোগীকে বলবে: নাও তোমার ঠাকুর সামলাও। তারপর জল দিয়ে মানৎ করবে যে ভাল হলে পূজা করব। বাইরের দেবতা উঠলে ওঝা মন্ত্র আওড়াতে আওড়াতে দেবতাকে চাল ছড়িয়ে দিবে, (নে তবে কালনা বঙ্গা বুল মায়াম সিটকা ময়াম এমাম্ চালাম কামাঞ করিয়াক—ক কাটিক্ মায়, অকোরে আচু লেং মেয়া ডোডে লেং মেরা উনিরেন সিরা হগমণে সঠুক সামবাড় কেম্, তেঁঞে খা—দ নিয়া অড়া: দ ছিকেম হাড়িকেম, ওকাড়েতাম মাম বা থাম সেকজং বেরেৎজং মে।) মাও তরে কাল না বঙ্গা জাং এর রক্ত শিরায় রক্ত দিচ্ছি, ভাল যেন হয়ে যায় যে তোমাকে লাগয়েছিল তার সেরা ছেলেই সাবাড় করুন, আজ থেকে এ বাড়ি ছেড়ে দেন, নিজের খানে চলিয়া যান। মারাং বুরু আর পারগামাকেও চাল ছড়ায়ে ‘বাঁখেড়’ (মিনতি) করবে, এই যে অমুক মাঝির ঘরে 'জঙ্গম বঙ্গা' (যে দেবতা মানুষকে খায়।) জজম বুরু লেগেছিল পড়েছি, ধরে সাবুদ করলাম খুদ চাল তার দিয়ে দিলাম, তারই সাক্ষী সভা করুন, আজ থেকে