‘গোড়েৎ’-এর কাজ মাঝির ডাকা সভার খবর গ্রামে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া।
সমাজের ধর্মীয় জীবনে জানগুরুর কোনও স্থান নেই। আদিবাসী সমাজে পুজো-পার্বণের ভার কখনই জানগুরুকে দেওয়া হয় না। ওঝা বা জানগুরু অথবা আর যে নামেই পরিচিত হোন না কেন এরা সমাজের মানুষের ভয়-মিশ্রিত শ্রদ্ধা আদায় করে। নানা কারণে মানুষ ওঁদের পরামর্শ নিতে হাজির হন। রোগের কারণ ও রোগমুক্তির জন্য, বন্ধ্যা রমণী মা হওয়ার বাসনা নিয়ে, চুরি যাওয়া জিনিসের খোঁজে, গৃহপালিত পশুর অসুখের সমস্যা নিয়ে, সন্তান-সম্ভবার সন্তান যেন ভালভাবে হয় এই প্রার্থনা নিয়ে, ডাইনি ধরেছে সন্দেহ করলে, ডাইনির নজর পড়েছে সন্দেহ করলে অথবা ডাইনিকে খুঁজে বের করার আবেদন নিয়ে সমাজের বিভিন্ন মানুষ উদ্ধার পেতে জানগুরুর শরণাপন্ন হন।
সমাজের বিশ্বাস, জানগুরুরা এক বিশেষ ধরনের বোলার মাধ্যমে অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী। এইসব বোদ্ধাদের সাহায্যে জানগুরু ডাইনিদের এবং অনিষ্টকারী আত্মাদের প্রভাব নষ্ট করতে সক্ষম। জানগুরুরা বিভিন্ন প্রয়োজনে বিভিন্ন বোঙ্গাদের কাজে লাগিয়ে অনিষ্টকারী বোঙ্গা, আত্মা, ডাইনিদের নিয়ন্ত্রণ করেন। দু একটি উদাহরণ বরং দিই। প্রসূতির হিতার্থে ভালুয়াবিজয় বোঙ্গা, উলুমপাইকে বোঙ্গা, জুলুমপাইকে যোঙ্গা, খোস-পাঁচড়ায় গোসাী-এরা বোঙ্গা, পাগল ভাল করতে নাশনচণ্ডী বোঙ্গা, দুরিয়া বারদো বোঙ্গা, গৃহপালিত পশুদের অসুখে জাহের এরা বোঙ্গাও নাগ-নাগিন বোঙ্গাদের তুষ্ট করে কাজে লাগান হয়। জানগুরুদের বোঙ্গাদের মধ্যে কিছু হিন্দু দেব-দেবীও আছেন। যেমন গঙ্গা, কালী, দিবি (দুর্গা)।
আদিবাসী সমাজের বিশ্বাস, জাদু দুরকমের- হিতকারী ও অনিষ্টকারী। জানগুরুরা হিতকারী জাদু ক্ষমতার অধিকারী এবং ডাইনি বা ডাইনরা অনিষ্টকারী জাদু ক্ষমতার অধিকারী। সমাজ বিশ্বাস করেন একমাত্র জানগুরুরাই ডাইনির মন্ত্রশক্তির বিরুদ্ধে লড়ার ক্ষমতা রাখেন। যদি কোনও ডাইনির শক্তির কাছে একজন জানগুরু পরজিত হন অন্য জানগুরু আসবেন। জানগুরুরা সমাজের কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ।
ডাইন প্রসঙ্গে বহু জানগুরুর সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের অনেকের মত—ডাইনি যার উপর নজর দিয়েছে, তার গু ডাইনিকে খাওয়ালে ডাইনির ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। আবার অনেকের মতে ডাইনি যতক্ষণ জীবিত থাকে,