‘গোঁসাঞী-এরা’ ঘা-পাঁচড়া ইত্যাদি চর্মরোগের বোঙ্গা। সাদা মোরগ বলি দিয়ে গোঁসাঞী-এরাকে সন্তুষ্ট রাখা হয়।
‘মোরাইকো-তুরুইকো’ (আক্ষরিক অর্থে পাঁচ ছয়) বোঙ্গা একজন বোঙ্গা হিসেবেই পুজো পান। মোরাইকো-তুরুইকো গ্রামের ভাল মন্দের দেখাশোনা করেন; শস্যের ফলন, বৃষ্টি, খরা, মড়ক ইত্যাদির নিয়ন্ত্রক।
সমাজ বিশ্বাস করে ডাইনি ও ডাইনদের উপর ‘পরগনা বোঙ্গা’র নিয়ন্ত্রণ আছে। ডাইনির নজর পড়ে অসুখ-বিসুখ হচ্ছে বলে জানগুরু ঘোষণা করলে ডাইনিদের মন্ত্রকে কাটান দিতে জানগুরুরা পরগনা বোঙ্গার পুজো করেন। গ্রামের প্রান্তে থাকে জাহের থান বা পবিত্র কুঞ্জ। এই পবিত্রকুঞ্জে সমাজের বোঙ্গা বা দেবতারা থাকেন। পাশাপাশি তিনটি শালগাছের তলার তিনটি পাথর মারাং বুরু, জাহের-এরা ও মোরেইতো-তুরুইতো নামে পূজিত হয়। সমাজের বিশ্বাস পাথরগুলো বোঙ্গারাই রেখে গিয়েছেন। দুটি মহুয়া গাছতলা হয় ‘গোঁসাঞী’-এরা ও পরগনার খান।
জাহেন থানে বোঙ্গারা প্রধান প্রধান পরবের বা উৎসবের সময় পুজো পান। প্রধান উৎসবগুলো হলো ফসল তোলার উৎসব ‘সোহরাই’, ফসল বোনার উৎসব ‘এরোক সিম’ পুষ্প উৎসব ‘বাহা’ ইত্যাদি।
জাহের থানের বোঙ্গারা ছাড়া গ্রামের মাঝে থাকে ‘মাঝি বোঙ্গা’র খান। মাঝি বোঙ্গাকে ‘মাঝি বুড়ি’ বা ‘মাঝি হুড়ম’ নামেও ডাকা হয়। মাঝি থানের অবস্থান গ্রামের মাঝির বাড়ির সামনে। মাঝি বোঙ্গা গ্রামের মাঝির আধ্যাত্মিক উপদেষ্টার কাজ করে।
মাঝি বোঙ্গা গ্রামের ভাল-মন্দ দেখাশোনা করেন। জাহের থানের বোঙ্গাদের পুজো দেবার আগে মাঝি বোঙ্গার পুজো দেওয়া হয়। মাঝি বোঙ্গার পুজো করেন মাঝি স্বয়ং। পুজোয় মাঝি বোঙ্গাকে নিবেদন করা হয় হাঁড়িয়া, বলি দেওয়া হয় দুটি পায়রা|
সমাজের বিশ্বাস মাঝি বোঙ্গা ও পরগনা বোঙ্গার অন্যান্য বোঙ্গাদের উপর যথেষ্ট প্রভাব আছে।
যদিও জাহের বোঙ্গারা আদিবাসী অনেক জনজাতির কাছে পূজনীয়, কিন্তু এক গ্রামের মানুষ অন্য গ্রামের জাহের থানে পূজো দেন না। যদি এক গ্রামের মানুষ স্থায়ীভাবে অন্য গ্রামে বসবাস শুরু করেন, তবে তিনি নতুন গ্রামের জাহের থানে পুজো দেওয়ার অধিকার পান।
এসব ছাড়াও প্রতিটি খুঁটের বা উপগোষ্ঠীর রয়েছে, নিজস্ব দেবতাও৷
অলৌকিক নয় লৌকিক/২য়—১৯