বেরি হচ্ছেন তখন একটা সাপ কামড়াল গুরুর মাথায়। গুরুকে বাঁচাবার সব চেষ্টাই ব্যর্থ হলো। গুরুকে শ্মশানে নিয়ে গিয়ে চিতা সাজিয়ে তার উপর শোয়ানো হলো। চিতায় আগুন জ্বলে ওঠার কিছু পর বিশাল শব্দ করে একটা আগুনের গোলা শূন্যে উঠে গেল। ভীত ভক্তরা সেই শব্দে ও গোলার আগুনের তীব্রতায় পালিয়ে গেলেন। কাছের মাঠে কিছু মেয়ে শুকনো কাঠি কুড়োচ্ছিল। আগুনের গোলাটা তাদের কাছে পড়তেই তারা গোবর লেপা ঝুড়ি দিয়ে চাপা দিল। ফলে মেয়েদের মধ্যে সঞ্চারিত হলো গুণীনের অলৌকিক শক্তি ও ক্ষমতার বড় অংশ। পরের যে ছোট আগুনের গোলাটা শূন্যে উঠে মাটিতে এসে পড়েছিল, সেটা সংগ্রহ করেছিলেন ভক্তেরা। ভক্ত পুরুষদের মধ্যেও সংক্রামিত হলো গুরুর শক্তি, তবে তা খুবই কম।
কোন কোন ক্ষেত্রে সাঁওতাল সমাজের মেয়েরা কিছু কিছু হিন্দু দেব-দেবীর পুজো করছেন বটে। (কালী, কৃষ্ণ ইত্যাদি) কিন্তু এগুলো বিরল ব্যতিক্রম। হিন্দু দেব-দেবীদের পূজোর বাইরে কিন্তু সাঁওতাল সমাজ তাঁদের নারীদের বোঙ্গা পুজোর অধিকার স্বীকার করে নেয়নি।
ডাইনি, জানগুরু প্রথার বিরুদ্ধে কী করা উচিত
লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে যে সব বছর ভাল ফসল হয়, সমাজে অভাব অনটন কম, সেসব বছর ‘ডাইনি’ হত্যা বা ‘ডাইনি’ বিচারের ঘটনা কম ঘটে। যেসব বছর ফসল ভাল হয় না, গো-মড়ক দেখা দেয়, সেসব বছরগুলিতে ডাইনি নিয়ে অভিযোগ ওঠে বেশি।
জানগুরুদের অলৌকিক ক্ষমতায় বিশ্বাস সাধারণ মানুষদের এমনি আসেনি। তাঁরা দেখেছেন জানগুরুদের ‘অলৌকিক’ সব কাণ্ডকারখানা। জানগুরুরা আত্মা, ভূতদের নিয়ে আসতে পারেন, কাজে লাগান। ভূতেরা গ্লাস থেকে তাড়ি খায়। কঞ্চি চালান করে, নখদর্পণ, আটার গোলা ভাসিয়ে হাতে ছাই ঘয়ে নাম ফুটিয়ে চুরি যাওয়া জিনিসের হদিশ দিচ্ছেন। যেভাবে এসব ঘটনা জানগুরু ঘটাচ্ছেন, সেগুলোর ব্যাখ্যা সাধারণ বুদ্ধিতে পাওয়া যাচ্ছে না বলেই ঘটনাগুলোকে অলৌকিক ক্ষমতার প্রকাশ ছাড়া আর কিছু ভাবার অবকাশ থাকছে না। তারই ফলশ্রুতিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি সমাজের শিক্ষিত স্নাতক, শিক্ষকরাও জানগুরুদের নির্দেশকে অভ্রান্ত মনে করে ডাইনি হত্যায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।
ডাইনি হত্যার পিছনে রয়েছে ডাইনিদের এবং জানগুরুদের অলৌকিক