বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (দ্বিতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/২৯৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ডাইনি ও আদিবাসী সমাজ
২৯৩

ক্ষমতার প্রতি সাধারণের অন্ধ বিশ্বাস। অন্ধ বিশ্বাস কিন্তু শিক্ষার সঙ্গেই শুধুমাত্র সম্পর্কিত নয়। যাঁরা মনে করেন আদিবাসী সমাজকে শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ সুবিধে দিলেই ডাইনি হত্যা বন্ধ হয়ে যাবে, তাঁরা প্রকৃত সত্য বিষয়ে বা সমস্যার গভীরতা বিষয়ে ঠিক মত অবহিত নন, এ কথা অবশ্যই বলা চলে। ডাইনি ও জানগুরুদের অলৌকিক ক্ষমতার প্রতি বিশ্বাস শুধুমাত্র পুঁথিগত বিদ্যাতেই দূর করা সম্ভব বলে যাঁরা মনে করেন তাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি, কুসংস্কার ও অন্ধ-বিশ্বাসে আচ্ছন্ন শিক্ষিতের সংখ্যাই যে আমাদের দেশের শিক্ষিতদের মধ্যে সংখ্যাগুরু, এ সত্যকে কি আমরা অস্বীকার করতে পারি? বিজ্ঞান শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষ, বিজ্ঞান পেশার মানুষ, শিক্ষক, অধ্যাপক বুদ্ধিজীবী এমনকী স্বীকৃত মার্কসবাদীদের মধ্যে কি আমরা কুসংস্কারে আচ্ছন্ন মানুষের সাক্ষাৎ পাই না? বাস্তব সত্যটি এই যুক্তি দিয়ে সহানুভূতির সঙ্গে বোঝালে শুধুমাত্র শিক্ষার সুযোগ পাওয়া মানুষরাই নন, শিক্ষার সুযোগ লাভে বঞ্চিত মানুষরাও সংস্কার মুক্ত হন। এই কথাগুলো কেবলমাত্র কল্পনাপ্রসূত বা ধারণাপ্রসূত নয়, বরং বলতে পারি হাতে-কলমে কাজ করার মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতার ফলশ্রুতি। মানুষ শৈশব থেকেই বেড়ে উঠছে অলৌকিকের প্রতি আস্থাশীল পরিবারে, সমাজে পরিবেশে। পড়ার বই ও গল্পের বইয়ের মাধ্যমেও অলৌকিকতার প্রতি বিশ্বাস ও ভুল ধারণাই প্রতিনিয়ত সঞ্চারিত হচ্ছে আমাদের মস্তিষ্ক স্নায়ুকোষে। বিপরীত কোনও যুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ না পাওয়ার ফলে অলৌকিকতার প্রতি বিশ্বাসগুলোই দিনে দিনে দৃঢ়বদ্ধ হয়েছে। মানুষ যুক্তির সঙ্গে পরিচিত হবার সুযোগ পেলে যে আন্তরিকতার সঙ্গে যুক্তিকেই বেশি গ্রহণযোগ্য মনে করেন এই সত্যটুকু যুক্তিবাদী আন্দোলনের একজন কর্মী হিসেবে উপলব্ধি করেছি।

 শত শত বছর ধরে ভাববাদী দর্শন যে অন্ধ-বিশ্বাসগুলোকে, আমাদের চিন্তার জগৎকে, প্রতিনিয়ত প্রভাবিত করে চলেছে যুক্তিবাদী দর্শন মুহূর্তের চেষ্টায় কোটি কোটি মানুষকে সেই প্রভাব থেকে মুক্ত করতে সক্ষম হবে, এমনটা ভাবা বাতুলতা মাত্র। আমাদের দেশে অক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন মানুষের সংখ্যা অতি নগণ্য। শিক্ষিতদের মধ্যেও অতি প্রয়োজনীয় (লেখাপড়া শিখতে যতটুকু না কিনলেই নয়) বই কেনা ছাড়া বই কেনার অভ্যাস খুবই কম। অন্ন-বস্ত্রের মত বই কেনাকে বেঁচে থাকার ন্যূনতম প্রয়োজন বলে মনে করেন না। কিনলেও সাধারণভাবে ‘শেষ পারানির কড়ি’ হিসেবে ধর্মগ্রন্থই সেখানে গুরুত্ব পায়। কুসংস্কার মুক্তির কাজ এক বা কয়েকজন ব্যক্তির কিছু লেখাতেই