বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (দ্বিতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/২৯৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৯৪
অলৌকিক নয় লৌকিক ২

সমাধান হয়ে যাবে এমন ভাবাটা একান্তই অমূলক। যুক্তিবাদী লেখা-পত্তর কিছু মানুষ বা কিছু সংগঠনকে যুক্তিবাদ আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে চিন্তার স্বচ্ছতা আনতে সাহায্য করতে পারে, দিশা দিতে পারে মাত্র। এর বেশি কিছু নয়। স্বচ্ছতাপ্রাপ্ত মানুষরা বিভিন্ন গণসংগঠন করে যেদিন অক্ষরজ্ঞানহীন, শিক্ষার সুযোগ না পাওয়া মানুষদের স্বচ্ছ যুক্তির আলোতে উদ্ভাসিত করতে পারবেন, সেদিনই যুক্তিবাদী আন্দোলনে নতুন মাত্রা নতুন গতি যুক্ত হবে।

 শিক্ষিত এবং ডাইনি হত্যা বিরোধী মানুষদের লেখাতেও আমরা কিন্তু বার বার লক্ষ্য করেছি স্বচ্ছতার অভাব। নেতৃত্বের স্বচ্ছতার অভাবই ডাইনি হত্যা বিরোধী আন্দোলন গড়ে ওঠার পক্ষে প্রবলতর বাধা। শরৎচন্দ্র রায়ের বিখ্যাত বই ‘ওরাওঁ রিলিজিয়ন অ্যাণ্ড কাস্টমস্’-এ শ্রী রায় এ কথাও লিখেছেন, জনগুরু সম্প্রদায়ের অতিপ্রাকৃত ক্ষমতার অধিকারী মানুষগুলো এ সব বিদ্যা শেখে কখনও ভালবেসে, কখনও আয়ের পথ হিসেবে। এরা বুঝতে পারে কোনটা স্বাভাবিক, কোনটা অতিপ্রাকৃত। এরা অলৌকিক বিদ্যার পাশাপাশি, ভেষজ বিদ্যাও শেখে।

 রেভারেণ্ড পি.ও. বক্তি ‘ট্যাৰু কাস্টমস অ্যামাং দি সানতালস’ গ্রন্থে একথাই বলেছেন, মেয়েরা সে ভাল বা মন্দ উদ্দেশ্যেই হোক, অলৌকিক ক্ষমতাগুলোর কাছে পৌঁছাতে চায়। সেটা প্রকাশ্যে পারে না। কারণ পুরুষেরা মত দেয় না। তাই গোপনে ডাইনি বিদ্যার অনুশীলন করে।

 অসিতবরণ চৌধুরীর ‘উইচ কিলিং অ্যামাং দি সানতালস্’ বইটি পড়লে কোথাও এমন কথা পাই না যাতে মনে হয় ‘জান’ এবং ‘ডান’ কারোই কোনও অলৌকিক ক্ষমতা-টমতা বলে কিছু নেই। বরং শ্রীচৌধুরীর কথায় সন্দেহ জাগে এ বিষয়ে তাঁর নিজস্ব বিশ্বাস রয়েছে দোদুল্যমান অবস্থায়।

 শ্রী চৌধুরীর বিভিন্ন লেখা পড়েও এ বিষয়ে তাঁর মতামত বুঝে ওঠা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। তাঁর কথায়, ‘মন্ত্র-তন্ত্রসমন্বিত জানগুরুর কার্যকলাপকে আমরা হিতকারী জাদু বা white magic বলে অভিহিত করতে পারি। অনুরূপভাবে, অনিষ্টকারী যেসব ব্যক্তি মন্ত্র-তন্ত্রের আশ্রয় নিয়েছে, তাদের কার্যকলাপকে অহিতকারী জাদু বা black magic আখ্যা দেওয়া যেতে পারে। সাঁওতাল সমাজে যারা black magic করছে বা জাদু করছে, তাদের ‘ডান আখ্যা দেওয়া হয়।’

তার মানে? তিনি কি ‘ডান’ সত্যিই আছে কি না’র উত্তরে জানাচ্ছেন