প্রথম দিন বিকেলেই জ্যোতিষ বিষয়ক প্রদর্শনী কক্ষে যুক্তির আক্রমণ চালালেন দুই জ্যোতিষী। একজন স্থানীয় এবং একজন নৈহাটির জ্যোতিষ। ওই কক্ষে টাঙান দুটি চার্ট দেখিয়ে জ্যোতিষী দুজন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানালেন, এই পোস্টার দুটিতে দেওয়া তথ্যগুলো ভুল। এবং জ্যোতিষ শাস্ত্রকে মিথ্যা প্রমাণ করতেই মিথ্যাচারিতার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞান ক্লাবের অনেকেই বিতর্কে অংশ নিলেন, অংশ নিলেন সম্পাদক স্বয়ং। শেষ পর্যন্ত সম্পাদকই আমাকে ওখানে ডেকে নিয়ে গেলেন। জ্যোতিষী দুজনের অভিযোগের উত্তরে বিনীতভাবেই স্বীকার করে নিলান, পোস্টার দুটিতেই ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। একই জন্ম সময় নিয়ে বিভিন্ন জ্যোতিষী বিভিন্ন ধরনের গ্রহ অবস্থান দেখিয়ে ছক করেছেন এটা অবিশ্বাস্য। বরং এই ছক তিনটি দেখলে সন্দেহ জাগে, জ্যোতিষ শাস্ত্রকে এবং জ্যোতিষীদের হাসির খোরাক করতে গিয়ে নিজেরাই মিথ্যাচারিতার আশ্রয় নিয়েছেন। দ্বিতীয় পোস্টারটিতে কয়েকটি গ্রহরত্ন বিষয়ে তথ্যগত ভুল ছিল। সম্পাদক জানালেন, তাঁরা এই তথ্যগুলো একটি বিজ্ঞান পত্রিকা থেকে সংগ্রহ করেছেন। ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। শর্টকার্ট-এ বাজিমাত যে করা যায় না, অন্তত নেতৃত্ব দিতে গেলে প্রতি-আক্রমণের মুখে সামাল দিতে, যাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ হানব, তাদের বিষয়ে যথেষ্ট স্পষ্ট ধারণার প্রয়োজন। এর কোনও ব্যতিক্রম সম্ভব নয়। নতুবা তেমন আঘাতের মুখে ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়।
আবার আমাদের মূল আলোচনায় ফেরা যাক। আদিবাসীদের বা সাঁওতালদের মধ্যে যাঁরা খ্রিস্টান বা হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছেন তাঁরাও কিন্তু ডাইনি বিশ্বাস থেকে মুক্ত হতে পারেননি। কারণ, সমাজের আশেপাশের মানুষদের ডাইনির প্রতি বিশ্বাস তাঁদের চিন্তা ও বিশ্বাসকে প্রভাবিত করেছিল। এও দেখেছি সাঁওতাল গ্রামের আশেপাশের শহরের বা গ্রামের ব্রাহ্মণরা পর্যন্ত জানগুরুদের কাছে দৌড়োন নানা বিপদ-আপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার আশায়।
ডাইনি ও জানগুরুর অলৌকিক ক্ষমতার প্রতি যে বিশ্বাস বংশপরম্পরায় সমাজজীবনে চলে আসছে, তারই পরিণতিতে ঘটে চলেছে ডাইনি হত্যার মতো বীভৎস প্রথা।
এ সমস্যা সামাজিক অর্থনৈতিক সমস্যা। এর জন্য শুধু আইন নয়, প্রয়োজন সাংস্কৃতিক বিপ্লবের। অন্ধ-বিশ্বাসী মানুষগুলোকে বোঝাতে হবে ‘ডান’ বা ‘জান’ কারও কোনও অলৌকিক ক্ষমতা নেই। এসব বোঝাতে কার্যকর ভূমিকা