সৃষ্টির একটি জাদু-দণ্ড তৈরি করিয়েছিলেন। কাউকে ডাইনি ঘোষণা করা হয়েছে খবর পেলেই জাদু-দণ্ডটি নিয়ে সেই গ্রামে হাজির হতেন। যে জানগুরু বা জানগুরুরা ডাইনি ঘোষণা করেছে তাদের হাজির করতেন আদিবাসীদের সামনে। আনা হতো ঘোষিত ডাইনিতেও। সাহেব এবার জনসমক্ষে জানাতেন এই আশ্চর্য দণ্ড কোনও মিথ্যাচারী স্পর্শ করলে তার শরীরে আকাশের বস্ত্র এসে আঘাত করবে। মৃত্যু না হলেও অনুভব করবে মৃত্যুযন্ত্রণা। সত্যভাষীদের এই দণ্ড স্পর্শে কোনও বিপদ ঘটবে না। তারপর সাহেব জানগুরুদের দিয়ে ঘোষণা করাতেন কে ডাইনি। ঘোষণার পর জানগুরুরা দণ্ড ছুঁতেন। সাহেব দণ্ডে প্রবাহিত করতেন বিদ্যুৎ। জানগুরুরা বিদ্যুৎ তরঙ্গের আঘাতের আকস্মিকতায়, তড়িদাহত বিষয়ে অজ্ঞতায় ভীত, আতঙ্কিত হয়ে আর্তনাদ করে উঠতেন। এবার ঘোষিত ডাইনিকে ডেকে জিজ্ঞেস করতেন, “তুমি কি ডাইনি?” মেয়েটি জানাতেন, “না”। এবার মেয়েটিকেও দণ্ডটি স্পর্শ করতে হতো। সাহেব এবার দণ্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করতেন না। আদিবাসী সমাজ এমন একটা অসাধারণ প্রমাণ পেয়ে বিশ্বাস করে নিতেন, মেয়েটি নির্দোষ। জানগুরুরা মেয়েটির প্রতি কোনও আক্রোশ মেটাতে ডাইনি বলে ঘোষণা করেছিল।
সাহেব নাকি প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই কৌশল প্রয়োগ করে ঘোষিত ডাইনিদের প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হয়েছিলেন।
এবারের ঘটনাস্থল নদীয়া জেলার বেথুয়াডহরি। সময় ’৮৯-এর জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। গিয়েছিলাম বেথুয়াডহরি বিজ্ঞান পরিষদ আয়োজিত একটি বিজ্ঞান মেলায় বিজ্ঞান শিক্ষণ শিবির পরিচালনা করতে। খবর পেলাম বেথুয়াডহরির উপকণ্ঠে এক সাঁওতাল পল্লিতে এক রমণীকে ‘ডাইনি’ ঘোষণা করা হয়েছে। এই নিয়ে গ্রামে যথেষ্ট উত্তেজনা রয়েছে। বিজ্ঞান পরিষদের সক্রিয় তরুণের সংখ্যা প্রচুর। তাঁরা ওই গ্রামের কয়েকজন মাতব্বরকে হাজির করলেন আমার কাছে। ওঁদের কাছে আমার পরিচয় দিয়েছিলেন কলকাতার বড় গুনিন হিসেবে। কথা বলে জানলাম, গত ছয় মাস ওদের পল্লির সাত জন মারা গেছেন। ডাইনিই নাকি ওদের খেয়েছে। এক জানগুরুর কাছে ওঁরা গিয়েছিলেন গাঁয়ের মাঝিকে নিয়ে। জানগুরুকে তেল-সিঁদুর দিতে শালপাতায় তেল ছিটিয়ে, ধুনো জ্বেলে, শাঁখ বাজিয়ে মন্ত্র পড়ে শেষে শালপাতা দেখে জানিয়েছেন মৃত্যুর কারণ ডাইনি। যাঁর বউকে ডাইনি ঘোষণা করা হয়েছিল তিনিও এসেছিলেন। ওঁদের বললাম, “আমি কাল দুপুরে যাব, তোমাদের