বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (দ্বিতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/৩০৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩০৪
অলৌকিক নয় লৌকিক ২

এমনিভাবেই মুখ দিয়ে রক্ত পড়ে। চুরকী যে ঈশ্বরকে খাচ্ছে, এ কথা কেউ প্রমাণ করতে পারবে? গ্রামের অনেকেই যদিও প্রত্যক্ষদর্শী বলে দাবি করে জানিয়েছিলেন তাঁরা দেখেছেন চুরকী ডাইনি। কিন্তু কী দেখেছেন, যাতে ডাইনি বলে জানতে পেরেছেন-কমলারঞ্জনের এই প্রশ্নে অনেকে অস্বস্তিতে পড়েছেন। শেষপর্যন্ত কমলারঞ্জন ঈশ্বর ও ছোট সোরেনের সমর্থন পেয়ে অন্যদের রাজি করাতে সমর্থ হয়েছিলেন। বহরমপুর সদর হাসপাতালে বুকের ছবি তুলে চিকিৎসক জানালেন টি বি। চিকিৎসক কমলারঞ্জনের কাছে পূর্ব-সমস্যার কথা শুনে ঈশ্বরকে বোঝালেন, কেন এই রোগ হয়েছে, কীভাবে চিকিৎসা করতে হবে। চিকিৎসা শুরু হলো। পরবর্তীকালে কমলারঞ্জন ঈশ্বরকে হাজির করলেন গ্রামের মানুষদের সামনে। ঈশ্বর জানালেন চিকিৎসকের মতামত। মানুষগুলো কিন্তু যুক্তি মেনে নিলেন। মেনে নিলেন চুরকী ডাইনি নয়। ছোট সোরেন চুরকীর গ্রামবাসীদের ৬০ টাকা জরিমানা দিয়ে চুরকীকে ফিরিয়ে আনেন। তিন ছেলে এক মেয়ে নিয়ে চুরকীর এখন ভরা সংসার।

গুনিন কালীচরণ মুর্মু

 কালীচরণ মুর্মু জগমাঝি। এই নামেই পরিচিত গুনিন কালীচরণ। ‘জগমাঝি’ কালীচরণের উপাধি নয়। ‘জগমাঝি’ সাঁওতাল সমাজের নৈতিকতার রক্ষক ও সমাজের অন্যতম প্রধান। গুনিনের অভ্রান্ত গণনার কথা শুনে প্রতিদিন অনেকেই আসেন। কেউ আসেন হরানো গরু, চুরি যাওয়া জিনিস-পত্তরের খোঁজে, কেউ বা আসেন নিখোঁজ আপনজনের হদিশ জানতে। গুনিলের টানে আসা মানুষজন সাধারণত নদীয়া ও তার আশেপাশের জেলার মানুষ। ট্রেনে এলে নামতে হয় মদনপুর-এ। ছোট স্টেশন। টেশনের বাইরে মিলবে রিকশা ভ্যান। ভ্যানে পনেরো মিনিটের পথ জঙ্গল গ্রামের মোড়। সেখানে নেমে জিজ্ঞেস করলেই লোকে দেখিয়ে দেবে কালীচরণের বাড়ি। মাটির দেওয়াল, খড়ের ছাউনি। কালীচরণের বয়স ষাটের ধারে কাছে। বয়সের ঠাওর মেলবে না শরীরে। কাজ করতেন কল্যাণীর স্পিনিং মিলে। অবসর নেওয়ার পর পুরো সময়ের গুনিন। ওর তুক-তাক, ঝাড়ফুঁক, গোনার ক্ষমতায় বিশটা গাঁয়ের লোকের তরাস লাগে।

 তরাসের হাওয়া লাগেনি সম্ভবত মদনপুরের কিছু এঁচোড় পাকা দামাল ছেলে-মেয়ের। এদের জাতপাতের বালাই নেই, ঈশ্বর-আল্লা না মেনেও এরা বুক ঠুকে বলে, আমরা সাচ্চা-ধার্মিক। এমনি দুটি ছেলে ভানু হোর রায় আর