বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (দ্বিতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/৩১০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩০৬
অলৌকিক নয় লৌকিক ২

 ভানুও ঝপাং করে তেতে গেল। বলল, “বেশ তো, গণ্ডি কেটে আমাকে বন্দি করুন তো! আজই করে দেখাতে পারলে পাঁচশ টাকা দেব। আর যদি কয়েকটা দিন পরে দেখান—পঞ্চাশ হাজার দেব।”

 “তোমাদের দেখছি বড় চ্যাটাং-ট্যাটাং কথা, বড় টাকার গরম। পুঁইচচ্চড়ি চিবোন চেহারা আর মুখে পঞ্চাশ হাজারের গপ্পো। বোঙ্গা খেপলে ও সব বুকনি ঠাণ্ডা মেরে যাবে।”

 রেজাউল সামাল দিল, ‘ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি’র নাম শুনেছেন, আমরা সেই সমিতিরই ছেলে। যারা আপনার মতো ক্ষমতার দাবি করে, তাদের দাবি সত্যি কি মিথ্যে, পরীক্ষা করি আমরা। কী সব যুগ পড়েছে, ‘ঠগ বাছতে গাঁ-উজাড়’। পরীক্ষা না করে কারো দাবি মানা কি উচিত? আপনিই বলুন না?’

 কালীচরণ জুলজুল করে রেজাউলের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর সুর নামিয়ে বললেন, “আসল কথা কী জানো, গণ্ডি দিতে অনেক হ্যাপা। অনেক জিনিস-পত্তর জোগাড় করতে হয়। এই বয়সে তোমাদের জন্যে এতো হ্যাপা তুলতে পারব না।”

 ভানু, রেজাউল অত সহজে ছাড়ার পাত্র নয়। ভানুর নাছোড়বান্দা আবদার, “তাহলে মন্ত্রে পিঁড়ি সাঁটাটা অন্তত দেখান। এত নাম-ডাক আপনার, শুনেছি বোঙ্গার কৃপায় আপনি তুকতাক, রোগ চালান, ঝাড়-ফুঁকে অনেক অসম্ভব সম্ভব করেন। আমাদের ওই পিঁড়ির ব্যাপারটা দেখাতেই হবে।”

 কালীচরণ নরম হলেন। বললেন, “ঠিক আছে, কাল সকালে এসো।”

 সকালে দুজনের বদলে সমিতির আটজন হাজির হল কালীচরণের আস্তানায়—তবে নানা দলে ভাগ হয়ে আলাদা আলাদা ভাবে। তারপর কী ঘটেছিল, শোনা যাক মদনপুর শাখার সম্পাদক চিত্তরঞ্জন পালের কাছ থেকেই।

 ‘আমার সঙ্গী ছিল অসীম। সাহসী, বেপরোয়া অসীম আমারই মতো তরুণ এবং সমিতির পুরো সময়ের কর্মী। মুখে যতদূর সম্ভব চিন্তার ভাব ফুটিয়ে কালীচরণকে বললাম, বড় একটা সমস্যা নিয়ে এসেছি, আপনাকে সমাধান করে দিতেই হবে।’

 জগমাঝি কালীচরণ আমাদের অপেক্ষা করতে বলে উঠে গিয়ে নিয়ে এল দশ-বারোটা সবুজ কাঁঠাল পাতা। হাঁক পাড়তেই একটি ছোট্ট মেয়ে একটা তেলের শিশি দিয়ে গেল, সঙ্গে কিছু কাঠি। জগমাঝি বিড়বিড় করে মন্ত্র পড়ছিল আর একটা করে কাঁঠাল পাতা তুলে নিয়ে তাতে দু-ফোঁটা তেল ছিটিয়ে পাতাটা