ভাঁজ করে একটা করে কাঠি গুঁজে দিচ্ছিল এ-ফোঁড়, ও-ফোঁড় করে।
আমাকে নিয়ে এই মুহূর্তে আমাদের সমিতির আট জন সদস্য এখানে আছি। ভানু রেজাউলও এসেছে। সম্ভবত তথাকথিত কোনও অলৌকিক ক্ষমতা দেখিয়ে ভানু, রেজাউলকে অবাক করে দিয়ে সিঁড়ি আটকানোর চ্যালেঞ্জটা এড়াতে চায় বলেই ভানুরা আমার আগে আসা সত্ত্বেও আমার সমস্যা নিয়ে গুনতে শুরু করল কালীচরণ।
ছটা পাতায় তেল দিয়ে ভাঁজ করে কাঠি গুঁজে রেখে শুরু করল নানা অঙ্গভঙ্গি করে বেজায় রকম মন্ত্র পড়া। এক সময় একটা পাতা তুলে নিয়ে কাঠি খুলে ফেলে পাতাটার ভাঁজ খুলে এক দৃষ্টিতে চেয়ে রইল সেদিকে। একটু পরে বলল, “তুমি যার জন্যে এসেছ সে মেয়ে।”
বললাম, “না, সে তো মেয়ে নয়।”
জগমাঝি এবার আর একটা পাতা তুলে নিল। পাতা খুলে তেল পড়া দেখে বলল, “যার জন্য এসেছো সে একটা বাচ্চা ছেলে।”
বললাম, “না, সে তো বাচ্চা ছেলে নয়।”
জগমাঝি এবার তৃতীয় পাতা তুলে নিল, “তার পেটে ব্যথা হয়।”
বললাম, “ব্যথাটা পেটে তো নয়, বুকে।”
জগমাঝি ওই তৃতীয় পাতাটার দিকেই আবার কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল, “বুকের ব্যথাটা এই পেটের জন্যেই। ডাক্তার দেখাচ্ছ। ওষুধ খাওয়াচ্ছে, তাও ভালো হচ্ছে না। ওষুধে ভালো হবে না। খারাপ হাওয়া লেগেছে। ঝাড়তে হবে। রোগীকে নিয়ে এসো, ঝেড়ে দেব।”
বললাম, “রোগীর এত বয়স হয়েছে, রোগে ভুগেও কাহিল, নিয়ে আসাটাই সমস্যা।”
আবার পাতার দিকে দৃষ্টি মেলে দিয়ে একটু পরেই আমাকে বলল, “হ্যাঁ স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি বুড়ো, খুব বুড়ো। ও তোমার কে হয়?”
বললাম, “ঠাকুরদা”।
“হ্যাঁ, ঠিক ঠিক। এখন খুব কষ্ট পাচ্ছে। বুক চেপে ধরে রয়েছে। বাড়ি ফিরে ঠাকুরদাকে জিজ্ঞেস কোরো, ঠিক এই সময় বুকে ব্যথা উঠেছিল কি না, তাইতেই আমার ক্ষমতা বুঝতে পারবে।” ভানু ও রেজাউলের দিকে চেয়ে বলল, “তোমরাও যাও না কেনে ওর সঙ্গে। গেলেই বুঝতে পারবে আমি জগমাঝি ঠগ কি শুনি।”
জগমাঝি কি ঠগ? সে উত্তর আমাদের পাওয়া হয়ে গিয়েছিল। ঠাকুরদা