বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (দ্বিতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/৩৩২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩২৮
অলৌকিক নয় লৌকিক ২

কাজে লাগিয়ে বহু অসুখই সারানো সম্ভব। মনোবিজ্ঞানী, মনোরোগ চিকিৎসক, এমনকী চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতার ঝুলিতেও তার প্রচুর উদাহরণও আছে। ‘অলৌকিক নয়, লৌকিক’ গ্রন্থটির প্রথম খণ্ডে এই নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা রয়েছে। কোন কোন অসুখের ক্ষেত্রে বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে অসুখ সারানো সম্ভব এবং কেন তা সারে—এই প্রসঙ্গ নিয়ে তাই আবার পুরনো আলোচনায় ফিরলাম না।

চাল-পড়া

 বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছে হার, দুল, আংটি টাকা-পয়সা বা ঘড়ি—এমন ক্ষেত্রে এই একবিংশ শতাব্দীতে পা বাড়াবার মুহূর্তেও অনেকেই থানা-পুলিশ করার চেয়ে গুনিনের দ্বারস্থ হওয়াটাই বেশি পছন্দ করেন।

 শহরের চেয়ে গ্রামের মানুষ ও আদিবাসী সমাজের মানুষরাই গুনিনের চোর ধরার ক্ষমতায় বেশি রকম আস্থাবান। গুনিনদের অনেকেই চোর ধরতে সন্দেহজনকদের ‘চাল-পড়া’ খাওয়ায়।

 চোর ধরতে চাল পড়ার প্রচলন বহু প্রাচীনকাল থেকেই রয়েছে। ‘চাল পড়া’ জিনিসটা কী? আসুন ছোট্ট করে বলি। ধরুন আপনার বাড়িতে চুরি হয়েছে। বুঝতে আপনার অসুবিধে হয়নি, এ সিঁধেল চোরের কাণ্ড নয়। আপনারই চেনা-জানা, বাড়ির কাজের লোক অথবা পাড়ারই কোনও হাত-টান দু-চারজনকে সন্দেহও করছেন। হাতে-নাতে প্রমাণ নেই, তাই বসে বসে হাত কামড়ানো ছাড়া কোনও উপায় নেই বলে যখন ভাবছেন, ঠিক তখনই খবর পেলেন তিন মাইল দূরের সাঁওতাল পল্লির কার্তিক মুর্মু খুব বড় গুনিন। অব্যর্থ ওর চাল পড়া। আপনি হারানো জিনিস ফেরত পেতে পুলিশের ওপর নির্ভর করাটা ডাহা বোকামো ধরে নিয়ে কার্তিক মুর্মুর দ্বারস্থ হলেন। কার্তিক জানালেন কবে কখন যাবেন। আপনাকে নির্দেশ দিলেন সেই সময় পরিবারের সকলকে এবং সন্দেহজনকদের হাজির রাখতে। সময় মতো কার্তিক এলেন। সঙ্গে এক ফুলধারিয়া। শুরু হল কার্তিকের বকবকানি। তার মন্ত্রঃপূত চাল পড়া খেয়ে কোন গ্রামের কে কবে মারা গেছে তার এক দীর্ঘ ফিরিস্ত্রি পেশ করে উপস্থিত অনেকেরই পিলে চমকে দিলেন। যারা হাজির রয়েছে তারা চাল পড়া খাইয়ে চোর ধরার অনেক কাহিনিই ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছে। তাই কার্তিক যখন বলল, সে চালে মন্ত্র পড়ে দেওয়ার পর প্রত্যেককে খাওয়াবে, যে চুরি করেছে তার শ্বাসকষ্ট শুরু হবে, বুক ধড়ফড় করতে থাকবে,