চুরির কথা স্বীকার না করলে মুখ থেকে রক্ত উঠে মারা যাবে—তখন কার্তিকের কথায় অবিশ্বাস করার কোনও কারণ উপস্থিত কেউ খুঁজে পেল না।
আপনার গৃহিণীর কাছ থেকে সামান্য চাল নিয়ে মন্ত্র পড়া শুরু করলেন কার্তিক। সে কী মাথা ঝাঁকানি। কাঁপানো বাবরি চুলগুলো উথাল-পাথাল করতে লাগল। কার্তিকের শরীর দুলতে লাগল, মাঝে মাঝে হুঙ্কার। এক সময় রক্ত লাল চোখ মেলে কার্তিক এক একজনকে ধরে ধরে খাওয়াতে লাগল মন্ত্রঃপূত চাল বা চাল পড়া। এরপর তিন রকমের যে কোনও একটি ঘটনা ঘটতে পারে। একজন চাল পড়া হাতে পেয়ে মুখে পোরার পরিবর্তে আশেপাশে পাচার করার ব্যর্থ চেষ্টা করে শেষ পর্যন্ত হাউ-মাউ করে কেঁদে ফেলে একবার গুনিনের কাছে আছড়ে পড়ে, একবার আপনার পা ধরে অপরাধ স্বীকার করে বার বার ক্ষমা চাইতে পারে।
দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটতে পারে এই ধরনের চাল পড়া খাওয়া মানুষদের মধ্যে একজন কেমন যেন অসুস্থ বোধ করতে থাকে। শ্বাসকষ্ট হতে থাকে, বুক ধড়ফড় করতে থাকে, বুক জ্বলে যায়, চোখ ঠিকরে বেরিয়ে আসতে চায় আতঙ্কে। নিজেকে বাঁচাতে অপরাধ স্বীকার করে। গুনিনের পায়ে মাথা কুটে বার বার করুণ আবেদন জানাতে থাকে—“মরে গেলাম, আর সহা করতে পারছি না, মন্ত্র কাটান দাও।”
আবার এমন ঘটতে পারে, সবাইকে চাল পড়া খাওয়াবার পরেও কারো শরীরেই সামান্যতম অস্বস্তি দেখা গেল না, অপরাধী ধরা পড়ল না। গুনিন ঘোষণা করল, “যারা এখানে উপস্থিত তাদের মধ্যে চোর নেই।” গুনিনের এই ঘোষণাকে অনেক মানুষই সত্য বলে মেনে নেয়।
ঘটনা তিনটিকে আমরা একটু যুক্তি দিয়ে বিচার করি আসুন। চাল পড়ার ক্ষেত্রে এই তিন ধরনের যে কোনও একটি ঘটনাই ঘটে তাকে—তবে হয়তো সামান্য রকমফের করে। এর কোনোটিই চাল পড়ার অভ্রান্ততা বা অকাট্যতার প্রমাণ নয়। চাল পড়া না খেয়েই চোর কেন অপরাধ স্বীকার করে এটা নিশ্চয়ই আপনারা প্রত্যেক পাঠক-পাঠিকাই বুঝতে পেরেছেন। গুনিনের কথায় চোর বিশ্বাস করেছে। তাই চাল খেয়ে মৃত্যুযন্ত্রণা ভোগ করার চেয়ে অপরাধ স্বীকার করাকেই বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করেছে। চাল পড়া খেয়ে কেন চোরের শারীরিক নানা অসুবিধে হতে থাকে, সে বিষয়ে নতুন করে বিস্তৃত ব্যাখ্যার প্রয়োজন দেখি না। কারণ ‘অলৌকিক নয়,