থেকে বিরত হব। ’৮৮ সালের ঘটনা। ডাইনি সম্রাজ্ঞী ঈন্সিতার তখন রমরমা বাজার। পত্র-পত্রিকা খুলেই ঢাউস ঢাউস ঈঙ্গিতা। ঈপ্সিতার নাম, অলৌকিক ক্ষমতা নিয়ে পত্র-পত্রিকাগুলোর প্রচারের ঠেলায় আমাদের সমিতির সভ্যদের তখন পিঠ বাঁচানোই দায়। ঠিক করলাম, ঈপ্সিতার মুখোমুখি হব। শুনে আমাদের সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির জনৈক সদস্য আমাদের বললেন, “আরে ধু-র-, ঈপ্সিতার কোনও ক্ষমতাই নেই। ওর বুজরুকি ফাঁস করতে আবার সময় লাগে? গিয়ে একবার চ্যালেঞ্জ করুন না, ভুডু ৰাণ মেরে আপনাকে মেরে ফেলতে; দেখি কেমন ভাবে মারে?”
বললাম, “ঠিক আছে, তাই হবে, কাল দেখা করে সেই চ্যালেঙাই জানাবো। বলবো বাণ মেরে আপনাকে মারতে।”
শুনেই উনি হঠাৎ দপ করে রেগে উঠলেন। বললেন, “আমাকে। কেন মারতে বলবেন? চ্যালেঞ্জ জানান আপনি। আপনি নিজেকে মারতে বলুন।’
পরের দিন রাত ন-টা নাগাদ আমার বাড়িতে হাজির হলেন ওই সদস্য। সরাসরি জানতে চাইলেন ঈন্সিতাকে বাণ মারার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছি কি না। বললাম, “জানিয়েছি। এবং আমাদের সমিতির তরফ থেকে আপনিই বাণের মুখোমুখি হতে চান, এ কথাও জানিয়েছি। আমার কাছ থেকে আপনার কিছু পারটিকুলার্স নিয়েছেন। জানিয়েছেন, তিন দিন তিন রাতের মধ্যেই আপনার ওপর বাগের অ্যাকশন শুরু হবে।”
ব্যাঙ্ক আন্দোলনের নেতা ওই তরুণ তুর্কি আমার কথা শুনে কেমন যেন মিইয়ে গেলেন। তারপর বার কয়েক মিন মিন করে বললেন, “আমি তো ওঁকে চ্যালেঞ্জ করতে চাইনি। আমাকে এর মধ্যে জড়ানো নীতিগতভাবে আপনার উচিত ছিল না।”
পরের সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরেই খবর পেলাম, তরুণ তুর্কির স্ট্রোক হয়েছে। দৌড়লাম দেখা করতে। প্রথমেই ওঁর স্ত্রীর মুখোমুখি হলাম। আমাকে জবাবদিহি করালেন, “আপনার কি উচিত ছিল, ঈন্সিতার বিরুদ্ধে আমার হাজব্যাণ্ডকে লড়িয়ে দেওয়া?” বুঝলাম কোথাকার জল কোথায় গড়িয়েছে। আসামি আমি রোগী ও তার
স্ত্রী দুজনের কাছেই এবার সত্য প্রকাশ করলাম, “ঈপ্সিতার সঙ্গে ভুডু মন্ত্রে কাউকে মারবার প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনাই হয়নি। মজা করতে আর কিছুটা পরীক্ষা করতেই মিথ্যে গল্পটা ফেঁদেছিলাম।”
এক্ষেত্রে তরুণ বন্ধুটি ঈপিতার ক্ষমতায় বিশ্বাস করে আতঙ্কের শিকার