বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (দ্বিতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/৩৩৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
আদিবাসী সমাজের তুর্ক-তাক, ঝাড়-ফুঁক
৩৩৩

এবং ভারতের বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যেই বাণ মারার প্রতি গভীর বিশ্বাস রয়েছে। আরব কি আফ্রিকা, কানাডা কি অস্ট্রেলিয়া সর্বত্রই বাণ মারায় বিশ্বাসী মানুষ রয়েছেন। আফ্রিকাবাসীদের অনেকেই মনে করেন, ভুডু মন্ত্রে বাণ মেরে যে কোনও শত্রুরই শারীরিক ক্ষতি করা সম্ভব। আফ্রিকার ভুডু মন্ত্রের চর্চা ইউরোপীয় দেশগুলোতেও প্রভাব বিস্তার করেছে।

 শরীর বিজ্ঞানের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার সুযোগ পাওয়া মানুষ জানতে পেরেছে, বুঝতে শিখেছে আমাদের রোগের কারণ কোনও তুকতাক, বাণ মারা ইত্যাদি অশুভ শক্তির ফল নয়, নয় পাপের ভোগ। প্রতিটি রোগকে বিশ্লেষণ করলেই অলৌকিক কারণের হদিশ পাওয়া যাবে। যদিও এটা বাস্তব সত্য, চিকিৎসা বিজ্ঞান এখনও সব রোগ মুক্তির উপায় উদ্ভাবন করতে পারেনি। পারেনি মৃত্যুকে ঠেকাতে। কিন্তু না পারার অর্থ এই নয়—রোগের পিছনে বাণ মারা, তুক-তাকের মতো অলৌকিক কিছু শক্তি কাজ করে। ক্যানসার, যক্ষ্মা, ধনুষ্টঙ্কার, গ্যাংগ্রিন, ম্যালেরিয়া, অনাহারজনিত অপুষ্টি ইত্যাদি রোগের লক্ষণকেই অনেক বাণ মারা বা ভূক-তাকের অব্যর্থ ফল বলে ধরে নেয়।

 আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির, শাখা সংগঠন ও সহযোগী সংস্থাগুলো আজ পর্যন্ত দুশোর ওপর বাণ মারার দাবিদারদের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। কোনও ক্ষেত্রেই বাণ মারায় সমিতির কোনও সদস্যের মৃত্যু হয়নি—যদিও প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাণ মেরে মেরে ফেলার দাবিই ওঝা, গুনিন, তান্ত্রিকরা করেছিল। বাণ মারার শারীরিক প্রতিক্রিয়া দুর্বল চিত্তের অলৌকিকে বিশ্বাসীদের ক্ষেত্রেই শুধু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর সে সব ক্ষেত্রে গুনিন, তান্ত্রিকদের ক্ষমতার কাহিনি পল্লবিত হয়, ওদের ক্ষমতায় বিশ্বাসীদের সংখ্যা বাড়ে, রমরমা বাড়ে।

 বাণ মেরে কারও যেমন মৃত্যু ঘটানো সম্ভব নয়, তেমনই সম্ভব নয়, মন্ত্রে অন্যের শরীরে রোগ চালান করা বা রোগমুক্ত করা। অনেক সময় রোগী চিকিৎসক ও গুনিনের সাহায্য একই সঙ্গে গ্রহণ করে। চিকিৎসার গুণে রোগ সারানোও রোগী অনেক সময় বাণ মারার ক্ষমতায় বিশ্বাসী হওয়ার দরুন গুনিনের কৃপায় রোগমুক্তি ঘটেছে বলে মনে করে। আবার অনেক সময়শু ধুমাত্র গুনিনের বাণ মারায় রোগমুক্তি ঘটেছে এমন কথা দিব্যি গেলে বলার মতো অনেক লোকও পেয়েছি। তাদের কেউ কেউ হয়তো মিথ্যাশ্রয়ী। কিন্তু সকলেই নন, কারণ এমনটা ঘটা সম্ভব।

 রোগ সৃষ্টি ও নিরাময়ের ক্ষেত্রে আমাদের বিশ্বাসবোধের গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের বহু রোগের উৎপত্তি হয় ভয়, ভাবনা, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ইত্যাদি