বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (দ্বিতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/৩৩৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩৩৪
অলৌকিক নয় লৌকিক ২
৩৩৪

থেকে। মানসিক কারণে বহু অসুখই হতে পারে, যেমন—মাথাধরা, মাথার ব্যথা, শরীরের কোনও অংশে বা হাড়ে ব্যথা, স্পণ্ডালাইটিস, স্পণ্ডালোসিস, আরথ্রাইটিস, বুক ধড়ফড়, ব্লাডপ্রেসার, কাশি, ব্রঙ্কাইল অ্যাজমা, পেটের গোলমাল, পেটের আলসার, কামশীতলতা, পুরুষত্বহীনতা, শরীরের কোনও অঙ্গের অসাড়তা, কৃশতা এমনি আরো বহু রোগ মানসিক কারণে সৃষ্ট। এইসব রোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা অনেক সময়ই ঔষধি-মূল্যহীন ক্যাপসুল, ট্যাবলেট, ইনজেকশন ইত্যাদি প্রয়োগ করেন, সঠিক এবং আধুনিকতম চিকিৎসার সাহায্যে রোগ মুক্ত করা হচ্ছে, এই ধারণা রোগীর মনে সৃষ্টি করে অনেক ক্ষেত্রেই রোগীকে আরোগ্যের পথে নিয়ে যান। এই রোগীর বিশ্বাস নির্ভর এই চিকিৎসা পদ্ধতিকে বলে ‘প্ল্যাসিবো’ (Placebo) চিকিৎসা পদ্ধতি। প্ল্যাসিবো চিকিৎসা-পদ্ধতি বিষয়ে ‘অলৌকিক নয়, লৌকিক’ বইটির প্রথম খণ্ডে বহু উদাহরণ-সহ বিস্তৃত আলোচনা করা হয়েছে বলে এখানে আর বিস্তৃত আলোচনায় গেলাম না। শুধু এটুকু বলেই শেষ করতে চাই, যারা চিকিৎসকের সাহায্য ছাড়া বাণ মারা বা তুকতাকের ক্ষমতায় মুক্ত হয়েছে বলে মনে করে, তারা প্রতি ক্ষেত্রেই মানসিক কারণে নিজের দেহে রোগ সৃষ্টি করেছিল। এবং তাদের আরোগ্যের পেছনে বাণ মারা, তুকতাক বা তন্ত্রমন্ত্রের কোনও গুণ বা বৈশিষ্ট্য সামান্যতম কাজ করেনি, কাজ করেছে বাণ মারা, তুকতাক ও মন্ত্র-তন্ত্রের প্রতি রোগীদের অন্ধ বিশ্বাস।

গরুকে বাণ মারা

 গ্রামের মানুষ মাঝে-মধ্যে ওঝা বা গুনিনের কাছে হাজির হয় দুধেল গাইয়ের সমস্যা নিয়ে। কেউ বাণ মেরেছে, অথবা কোনও ডাইনির নজর পড়েছে। গরুর বাঁট থেকে দুধের বদলে বের হচ্ছে রক্ত।

 ওঝা ঝাড়-ফুঁক করে টোটকা ওষুধ দেয়। তাতে গরুর রক্ত দুধ সাদা না হলে শালপাতায় তেল পড়ে ঘোষণা করে কোনও ডাইনির নজর লেগেছে। কখনও বা ডাইনি কে তাও ঘোষণা করে গুনিন। পরিণতিতে নিরীহ কোন রমণীকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

 গরু শুধু নয়, মোষ, ছাগল, ভেড়া, শুয়োর সবার ক্ষেত্রেই দুধের পরিবর্তে রক্ত ও পুঁজ বের হওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। ভাইরাস থেকেই এই রোগ হয়। পশু-চিকিৎসকদের ভাষায় এই রোগকে বলা হয় ম্যাসটাইটিস' বা 'ঠুনকো'। আধুনিক চিকিৎসার সাহায্যের এই রোগ সারানো যায়।