বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (দ্বিতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/৩৪১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
আদিবাসী সমাজের তুক-তাক, ঝাড়-ফুঁক
৩৩৭

কিন্তু ওই দূরে গেটটাও দেখতে পাচ্ছেন। এমন ভুল শ্যামবাজার মোড়ে গড়িয়াহাটের মোড় বা পৃথিবীর যে কোনও স্থানেই হতে পারে। এই সাময়িক দিক নির্ণয়ে ভুল করাকেই কিছু কিছু মানুষ ভাবেন—কোনও অতিপ্রাকৃতিক শক্তি তাঁকে ভুলিয়ে ভালিয়ে টেনে নিয়ে যেতে চাইছিল মৃত্যুর গভীরে। ভোলায় মারার আগে অন্যের নজরে পড়ায় জীবনটা বেঁচেছে, কিন্তু ভোলায় ধরার পরিণতিতেই এমন স্মৃতিভ্রংশ ঘটেছে।

 ভোলা নামক অলীক কিছুর জন্য দিক খুঁজে পাচ্ছে না ভেবে দিক-হারা মানুষটি কেবলমাত্র ভয়েই মারা যেতে পারে। ভয়ে মস্তিষ্ক কোষের ভারসাম্য সাময়িকভাবে নষ্ট হতেও পারে। ‘ভোলায় ধরলে সব ভুলে যায়’ এমন একটা ধারণা শোনা কিছু কাহিনি বা দেখা কিছু ঘটনা থেকে পথিক প্রভাবিত হতেই পারে। প্রভাবিত পথিক যদি তীব্র আতঙ্কে ভাবতে শুরু করেন, আমাকে ভোলায় ভুলিয়ে নিয়ে ঘোরাচ্ছে, আমাকে হয় মেরে ফেলবে নতুবা সব কিছু ভুলিয়ে দেবে—তবে পথিকের হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া যেমন বন্ধ হতে পারে, তেমনই ঘটতে পারে সাময়িক স্মৃতিভ্রংশের ঘটনা।

 আবারও বলি, দিক বিভ্রমের মতো ঘটনাকে ভোলায় ধরার মতো অতিপ্রাকৃত ঘটনা বলে ভয় না খেলে মৃত্যু বা স্মৃতিভ্রংশতা দেখা দেয় না কখনওই।

জণ্ডিসের মালা

 জণ্ডিস বা ন্যাবা রোগে মন্ত্রঃপূত মালা পরার প্রচলন শুধু যে আদিবাসী সমাজ বা গঞ্জেই ব্যাপকতা পেয়েছে, তা নয়। বিভিন্ন শহরে এমনকী, কলকাতাতেও মন্ত্রপূত জণ্ডিসের মালার প্রতি জণ্ডিস রোগীদের আগ্রহ ও বিশ্বাস লক্ষ্য করার মতো।

 কলকাতার দর্জিপাড়ার মিত্তিরবাড়ি থেকে জণ্ডিসের মালা দেওয়া হয় প্রতি শনিবার। তিন-চার পুরুষ ধরেই তাঁরা এই মালা দিয়ে চলেছেন। সংগ্রহকারীদের ভিড়ও দেখার মতো।

 জণ্ডিসের মালায় কী হয়। জণ্ডিস রোগী এই মালা পরে সাধারণত প্রাপ্ত নির্দেশ মতো দুদিন স্নান করেন না। তেল, ঘি, মাখন খাওয়া বারণ। নিতে হয় পূর্ণ বিশ্রাম। মন্ত্রঃপূত মালা জণ্ডিসের রোগ যতই শুষে নিতে তাকে ততই মালা বাড়তে থাকে। বুক ছাড়িয়ে পেটের দিকে নামতে থাকে। আর পাঁচটা স্বাভাবিক মামলার মতো এ মালা একই আয়তন নিয়ে থাকে না। মালার অদ্ভুত ব্যবহারে ব্যবহারকারীরা বিশ্বাস বাড়ে। এবং সাধারণত দেখা যায় রোগী ধীরেঅলৌকিক নয় লৌকিক/২য়—২২