বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (দ্বিতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/৩৪৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩৪০
অলৌকিক নয় লৌকিক ২
৩৪০

ব্যাখ্যার অতীত, অলৌকিক। আমরা অনেক সময়ই বিস্মৃত হই, আমার জ্ঞানের বাইরের কোনও কারণ দ্বারাই এমন কাজটা ঘটা সম্ভব।

 প্রসঙ্গে ফেরা যাক। বাস্তবে অনেক সময় দেখা যায় রোগী একটু একটু ভালও হচ্ছেন। জণ্ডিস-ধোয়া গুনিনের নাম ও পসার বাড়ে। কেন সায়ে, এই প্রসঙ্গের আবার অবতারণা করা অপ্রয়োজনীয়, কারণ জণ্ডিসের মালা নিয়ে আলোচনাতে এই প্রসঙ্গে আমি এসেছিলাম। বরং এই প্রসঙ্গে আসি, কী করে জণ্ডিস রোগীর গায়ে বোলানো হাত ধুলে জল হলুদ হয়।

 একটু কষ্ট করে আম ছাল বেটে রস তৈরি করুন। একটা পাত্রে জল নিয়ে তাতে চুল ফেলে রাখুন। ঘণ্টা কয়েক পরে যে পরিষ্কার চুন জল পাবেন সেটা একটা বাটিতে ছেঁকে স্রেফ জল বলে যার সামনেই হাজির করুন—সকলেই সাধারণ জল বলেই বিশ্বাস করবেন। হাতে ঘষুন আমগাছের রস। এবার একজন সুস্থ মানুষের গায়ে হাত বুলিয়ে হাতটা বাটির চুল জলে ধুতে থাকুন, দেখবেন সেই অবাক কাণ্ডটাই ঘটে যাচ্ছে—জল হলুদ হয়ে যাচ্ছে।

যেসব প্রচলিত তুকতাক,
ঝাড়-ফুঁক বিষয়ে আমরা আলোচনা
করলাম, এর বাইরেও কিছু কিছু থেকে গেছে,
যেগুলো অপ্রধান বলে আলোচনায় আনিনি, অথবা
এমন কিছু কিছু তুক-তাক নিয়ে আলোচনা করলে ভাল
হতো, যেগুলোর বিষয়ে আমি এখনও কিছু শুনিনি
বলে আলোচনা করতে পারলাম না। সে সব তুক-তাক,
ঝাড়-ফুঁকের বিষয়ে বিস্তৃতভাবে জানিয়ে কেউ যদি
এর লৌকিক ব্যাখ্যা চান, নিশ্চয়ই দেব। এই
বিষয়ে আপনাদের কোনও অনুসন্ধানে
প্রয়োজনে আমার এবং আমাদের
সমিতির সমস্ত রকম সহযোগিতার
প্রতিশ্রুতি রইল। শুধু
অনুরোধ, চিঠি জবাবি
খাম-সহ পাঠাবেন।