প্রতিবেশীর উচ্চ-শিক্ষিতা স্ত্রী জানালেন, তিনিও মায়ের শরীরের অদ্ভুত গন্ধ পেয়েছেন।
এক সময় পুজো শুরু হল। পুজোর সময় লাগে খুবই কম। ইতিমধ্যে বহু ভক্ত মানুষই হাজির করলেন পেন, ডটপেন। এগুলো দিয়ে লিখলে নাকি কৃতকার্যতা অনিবার্য, দেবাশিস জানালেন।
তৃতীয় ও শেষবার পুষ্পাঞ্জলি দিয়েই লক্ষ্মীমা শরীরে বার কয়েক দুলুনি দিয়ে দড়াম করে আছড়ে পড়লেন মেঝেতে। তারপর কাটা মুরগির মতো ছটফট করতে লাগলেন, সঙ্গে দুহাতে চুল ধরে টানাটানি।
শিক্ষিত-শিক্ষিতা ভক্তেরা লক্ষ্মীমাকে না ছুঁয়েই গদগদ ভক্তিতে প্রণাম জানাতে শুরু করলেন। কাঁসার ঘণ্টা, শাঁখ উলু বেজে চলল, সেই সঙ্গে ভক্তরা জোড় হাত করে প্রার্থনা জানাতে লাগলেন, “মা তুমি শান্ত হও মা, মা তুমি শান্ত হও।”
যা এক সময় শান্ত হলেন। উপুড় হয়ে পড়ে রইলেন। গৃহকর্ত্রী পরম ভক্তিভরে মাকে নানা সমস্যার কথা বলছিলেন। উত্তরণের উপায় হিসেবে মা মনসা ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছিলেন, কখনও পুজোর ফুল ছুড়ে দিয়ে সঙ্গে রাখতে বললেন, কখনও দিলেন ঘটের জল পানের বিধান, কখনও বা অদেখা মানুষটির রোগ মুক্ত করতে বিষহরি মা মনসা হঠাৎ হঠাৎ মাথা তুলে বড় বড় পাগল পাগল চোখ তাকিয়ে তিন বার ফুঁ দিয়ে ঝেড়ে দিলেন।
এক সময় আমাকে প্রশ্ন করতে বললেন গৃহকর্ত্রী। মা মনসার পাশে বসলাম। আমার সম্বন্ধে লক্ষ্মীমা এবং দেবাশিস কেউই বোধহয় কিছু জানতেন না। হাতে গ্রহরত্নের রুপোয় বাঁধানো আংটি, গলায় ঝোলানো একটা তাবিজ দেখে সন্দেহের ঊর্ধ্বেই রেখেছিলেন। এটা-সেটা জিজ্ঞেস করার পর বললাম, “আমার ছোট বোনের গলায় ক্যানসার ধরা পড়েছে। চিকিৎসা চলছে। ভালো হবে মা?”
বহু ভক্ত কলরোল তুললেন, “বোনের নাম বলুন।”
বললাম, “রঞ্জিতা রুদ্র।”
মা মনসা বললেন, “ভালো হবে না। এই বৈশাখের আগেই মারা যাবে।”
আরও কিছু কথা-বার্তার পর ফিরে এসেছিলাম।
সে-রাতেই প্রতিবেশী আমার ফ্ল্যাটে এসেছিলেন। আমার বোনের ক্যানসারের কথা লক্ষ্মীমা কেমন অদ্ভুত রকম বলে দিলেন, সেই প্রসঙ্গ প্রতিবেশী উত্থাপন করতে জানালাম, “বোন রঞ্জিতা বহাল তবিয়তেই আছে